গত ২৭ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী থেকে রিফাত (৫) নামের এক শিশুকে কুড়িয়ে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেই থেকে শ্রীপুর থানার এসআই সৈয়দ আজিজুল হকের জিম্মায় রয়েছে শিশু রিফাত। চেষ্টা করা হচ্ছে আদরে লালন পালনের। তবুও শিশুটি এখন প্রায়ই কেঁদে কেঁদে মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার বায়না ধরে। খুঁজে ফিরছে শুধু তার মা-বাবাকে।
Child-Rifat-is-looking-for-parents 


গত ২৭ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী থেকে রিফাত (৫) নামের এক শিশুকে কুড়িয়ে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেই থেকে শ্রীপুর থানার এসআই সৈয়দ আজিজুল হকের জিম্মায় রয়েছে শিশু রিফাত। চেষ্টা করা হচ্ছে আদরে লালন পালনের। তবুও শিশুটি এখন প্রায়ই কেঁদে কেঁদে মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার বায়না ধরে। খুঁজে ফিরছে শুধু তার মা-বাবাকে।


শিশুটি শুধু বাবা ও মায়ের নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছে না। ১৬ দিনেও মিলছে না কুড়িয়ে পাওয়া শিশু রিফাতের স্বজনদের। পুলিশও রয়েছে বেকায়দায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারে পাল বাড়ির সামনে একা একা দাঁড়িয়ে ছিল শিশু রিফাত। এ সময় শিশুটি ফ্যালফ্যাল করে এদিক ওদিক কি যেন খুঁজছিল। অনেকে বিষয়টিতে নজর দিলেও কেউ শিশুর কাছে এগিয়ে আসেনি। ঘন্টা দেড়েক পরে স্থানীয় আকাশ পাল নামে এক ব্যক্তি শিশুটির কাছে এগিয়ে যায়।

পরে শিশুর কাছে জানতে পারে সে তার মা-বাবার জন্য অপেক্ষা করছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরেও অভিভাকদের কোনো হদিস না পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে বাজার কমিটির কাছে যান আকাশ পাল।

বরমী বাজারে ব্যবসায়ী তালুকদার আবুল হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া শিশু রিফাত শুধু তার নাম, মায়ের নাম মনি ও বাবার নাম কবির হোসেন বলতে পারে। অন্য কিছু জানতে চাইলে শুধু গ্রামের নাম বটতলা বলতে পারে। সুনির্দিষ্ট আর কোনো ঠিকানা বলতে পারে না সে। দিন গড়িয়ে রাত হয়ে যাওয়ায় কোনো অভিভাবকের খোঁজ না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এখন আমি নিজ হেফাজতেই রেখেছি তাকে। তবে শিশুটি মা-বাবার আদরের কোল খুঁজে সারাক্ষণ।

তিনি জানান, শিশুটিকে পাওয়ার সময় তার পরনে গেঞ্জি, হাফপ্যান্ট, পায়ে স্যান্ডেল ছিল। শিশুটি শান্ত ও নরম স্বভাবের।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিশু উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে শিশুটির স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রকৃত স্বজনদের বিষয়টি নজরে আনার চেষ্টা চলছে।

অভিভাবকের সন্ধানে স্থানীয়ভাবেও প্রচার চালানো হচ্ছে বলে ওসি জানান।

Post A Comment: