নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে একইস্থানে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের শোকসভা ও প্রস্তুতিসভার আয়োজনকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সভাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দিচ্ছেন।
একইস্থানে আ'লীগের দু’পক্ষের শোকসভা, ১৪৪ ধারা জারি

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে একইস্থানে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের শোকসভা ও প্রস্তুতিসভার আয়োজনকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সভাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দিচ্ছেন।




২ আগস্ট বুধবার দিনব্যাপী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশুরী এলাকার সফুরা কমিউনিটি সেন্টারে সকল ধরনের সভা সমাবেশের উপর উক্ত বিধি নিষেধ জারি করেছেন প্রশাসন।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভুঁইয়া অনুসারী নেতাকর্মীরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশুরী এলাকার সফুরা কমিউনিটি সেন্টারে আলাদাভাবে মিলাদ মাহফিল ও প্রস্ততি সভা আহ্বান করে। এ নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সভাস্থলে এবং এর আশেপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনের লক্ষে (২ আগস্ট) বুধবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি সভার আহ্বান করা হয় সফুরা কমিউনিটি সেন্টারে। আমাদের প্রস্তুতি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাবেক সংসদ সদস্য ও সেক্টর কমান্ডার ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম), আওয়ামী লীগ নেতা ও বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক রফিকুল ইসলাম রফিক উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের সভা ডাকার পরপরই স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী ওই সভাকে বানচাল করার জন্য যুবলীগকে দিয়ে পাল্টা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উদ্দেশ মূলকভাবে গাজী পেশীশক্তি ব্যবহার করে উপজেলার আওয়ামী লীগের সভা পণ্ড করিয়েছেন।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) এর নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে ১ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে মুশুরী এলাকার সফুরা কমিউনিটি সেন্টারে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করি আমরা। দলের ভেতর কোন্দল সৃষ্টি ও অনুষ্ঠান বানচাল করার জন্য একটি পক্ষ একই স্থানে পাল্টা সভার আয়োজন করে ঘটনাস্থলে বিধি নিষেধ জারি করিয়েছেন। যা খুবই দুঃখজনক।’

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম জানান, একই সময়ে একই স্থানে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ সভা ও মিলাদ মাহফিল আহ্বান করার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন বলেন, সভাস্থলে এবং এর আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখবে পুলিশ। কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

Post A Comment: