কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে বন্যা পরবর্তী সময় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। নদী তীবর্তী রৌমারী, রাজীবপুর, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় তিস্তার ভাঙ্গনে হাজারও ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

    কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে বন্যা পরবর্তী সময় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। নদী তীবর্তী রৌমারী, রাজীবপুর, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় তিস্তার ভাঙ্গনে হাজারও ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।


ব্রহ্মপুত্রের বামতীরের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার প্রায় ৩৫টি গ্রামে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় এ দুই উপজেলার ৭ শতাধিক ঘরবাড়ি, কাঁচা-পাকা সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ ফসলীয় জমি নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে।

রৌমারী উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো হলো- ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, চরঘুঘুমারী, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, পূর্বখেরুয়ারচর, পূর্ব খেদাইমারী, উত্তর খেদাইমারী, পশ্চিম পাখিউড়া, পাখিউড়া, পশ্চিম বাগুয়ারচর, বাগুয়ারচর ,বাইসপাড়া, বলদমারা, পূর্ব বলদমারা, ধনারচর, ধনারচর নতুন গ্রাম, দিগলাপাড়া, তিনতেলী গ্রাম।

রাজীবপুর উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত গ্রামগুলো হলো-শঙ্করমাদবপুর, সাজাই, চরসাজাই, বল্লাপাড়া, উত্তর কোদালকাটি, নয়ারচর, নয়ারচর বাজার, মাঠের ভিটা, লাউশালা, টাঙ্গইলাপাড়া গ্রাম। এসব এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙ্গনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ফারাজীপাড়া, বলদিয়াপাড়া, গারুহারাসহ পাশ্ববর্তী গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খাঁ গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ও বন্যা পরবর্তী সময়ে কুড়িগ্রামের নদীগুলোতে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়। এরমধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী ব্যবস্থা না হওয়ায় এখানে ভাঙ্গনে গ্রামের পর গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

রৌমারী উপজেলায় কর্মরত সিএসডিকে এনজিওর নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফের তথ্য মতে, গত ৫ বছরে কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পনি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার তীব্র ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখেছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Post A Comment: