মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় নতুন করে আরো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে এসেছেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা আশারতলি এলাকায় জিরো পয়েন্টে তারা আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে দুই সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ পাহাড়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে অবস্থান নিয়েছেন।
4-killed-in-road-accidents-in-Rajshahi 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় নতুন করে আরো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে এসেছেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা আশারতলি এলাকায় জিরো পয়েন্টে তারা আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে দুই সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ পাহাড়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে অবস্থান নিয়েছেন।


তবে বিজিবির বাধা ও কড়া পাহারার কারণে রোহিঙ্গারা সীমান্তের জিরো লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারছেন না।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু ঘুনধুম ফাত্রাঝিড়ি এলাকায় সীমান্তের জিরো লাইনে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা এখনো অবস্থান করছেন। সীমান্তের ওপার থেকে গুলির শব্দে রোহিঙ্গারা আতঙ্কে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন।

তবে ঘুনধুম সীমান্ত থেকে চাকঢালা সীমান্ত পর্যন্ত ১০ টি পয়েন্টে বিজিবি তাদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে টহল ও নিরাপত্তা আগের তুলনায় বাড়িয়েছে।

সীমান্তে অবস্থান নেয়া শিবির ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা বলছেন, হামলার ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামে ফিরতে পারছেন না। আবার বিজিবির বাধায় বাংলাদেশেও ঢুকতে পারছে না। এ অবস্থায় জিরো লাইনে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শরণার্থী ক্যাম্প থেকে খাবার সরবরাহ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

বিজিবির পক্ষ থেকেও মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের।

নাইক্ষ্যংছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল জানান, চাকঢালা ফুলতলি আশাতলি সীমান্তে বেশকিছু রোহিঙ্গা নো ম্যান্স ল্যান্ডে জড়ো হয়েছে অনুপ্রবেশের জন্য। তবে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দিচ্ছে। চাকঢালা আশারতলি পাহাড়ি এলাকা হওয়াতে এ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা আসতে চায় না। তবে প্রাণ বাঁচাতে অনেকে এখন দুর্গম এই সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়েছে।

চাকঢালা এলাকার ইউপি সদস্য মো. আলী হোসেন জানান, মায়ানমারের তায়ের ডেফা, চেংছড়ি, পুরান মাইজ্জা, ফকিরা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাম থেকে রোহিঙ্গারা হামলার আতঙ্কে গত রোববার থেকে সীমান্তে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে তারা খাদ্য-সংকটের মধ্যে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা যা পারছে কিছু খাদ্য দিচ্ছে। তারা খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে মিয়ানমারের ঢেকুবনিয়া এলাকায় এখনো থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালেও তুমব্রু সীমান্তের বিজিপির ক্যাম্পগুলো থেকে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এতে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজন ও আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল আনুয়ারুল আজিম জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা পুলিশ পোস্ট ও সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালালে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৭৭ রোহিঙ্গা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য নিহত হন।

এরপর নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা অভিযান শুরু করলে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের সীমান্তে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু।

Post A Comment: