রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় পাইককান্দি চরারকান্দি গ্রামের সরকারী ৪৫ একরের বদ্ধ জলমহলে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আধারে বিষ ঢেলে প্রায় ২০০ মণ মাছ নিধন এর ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই জলমহলে মৎস্য চাষ করা সমবায় সমিতির ২০ জন মৎস্যচাষী দিশেহারা হয়ে পরেছেন। বিষ প্রয়োগে সমবায়ের প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমিতির সদস্যরা।
200-species-of-fish-kill-poison-by-poisoning-in-Baliakandi

    রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় পাইককান্দি চরারকান্দি গ্রামের সরকারী ৪৫ একরের বদ্ধ জলমহলে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আধারে বিষ ঢেলে প্রায় ২০০ মণ মাছ নিধন এর ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই জলমহলে মৎস্য চাষ করা সমবায় সমিতির ২০ জন মৎস্যচাষী দিশেহারা হয়ে পরেছেন। বিষ প্রয়োগে সমবায়ের প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমিতির সদস্যরা।


বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বালিয়াকান্দি ‘সুফল ভোগী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র মৎস্য প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সমবায়ের মৎস্য চাষীরা এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে।

সুফল ভোগী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহ সভাপতি গজেন্দ্র নাথ সরকার জানান, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডাকের মাধ্যমে বালিয়াকান্দি উপজেলার পাইককান্দি চরারকান্দি এলাকার সরকারী বদ্ধ জলমহল ৩ বছরের মেয়াদে লিজ নেন। পরে সেখানে সমিতির ২০ জন সদস্য মিলে মৎস্য চাষ শুরু করেন। তাদের এই মৎস্য চাষে ঐষার্ণিত হয়ে শত্রুতার জেরে কে বা কারা রাতের আধারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২শ মণ মাছ নিধন করেছে। এতে তাদের ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও থেকে চরা সুদে ঋণের টাকা দিয়ে মৎস্য চাস শুরু করা হয়েছিলো। বর্তমানে সমিতির সবাই দিশেহারা হয়ে পরেছে। সরকারী ভাবে সহযোগীতা পেলে আবার সমবায়ের সদস্যরা মৎস্য চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।

সুফল ভোগী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, জলমহলে সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, রুই, মিরর কার্প, আমেরিকান ব্লাক কাপ, বাটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২শ মণ মাছ ছিলো। শত্রুতার জেরে বিষ দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলেছে। সমবায়ের সদস্যরা সবাই দরিদ্র মানুষ। ধার দেনা করে মাছ চাষে নেমেছিলো। এখন সবাই অসহায় হয়ে গেল।

সমবায়ের সদস্য প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, মানুষের সাথে মানুষের কোন্দল থাকতে পারে। তাই বলে মাছের সাথে এমন শত্রুতা করা ঠিক হয়নি। আমাদের সমবায়ের কষ্টের ফসল এই জলমহলের মাছগুলো চোখের সামনে মারা গেল। খুব কষ্ট লাগছে। এখন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছারা কিছুই করার নাই। সব মাছ মরে পচে যাচ্ছে। লাভের আশা তো দূরে থাক মূলধনই হারিয়ে গেল।

বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সঠিক কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তবে জলমহলে পাটের জাগ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার জানান, জল মহলের মাছ মরে যাবার বিষয়টি অমানবিক। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত করে দেখা হবে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসিনা বেগম জানান, এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Post A Comment: