বিভিন্ন মহল থেকে বিদেশে বিপুল পরিমাণে টাকা পাচারের অভিযোগ করা হলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘এটি নজরে নেওয়ার মতো কোন বিষয় নয়।’



বিভিন্ন মহল থেকে বিদেশে বিপুল পরিমাণে টাকা পাচারের অভিযোগ করা হলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘এটি নজরে নেওয়ার মতো কোন বিষয় নয়।’

১১ জুলাই মঙ্গলবার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন সংবাদপত্রগুলো অর্থপাচারের বিষয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশে অর্থ যে পাচার হয় না, সে কথা আমি বলবো না। কিন্তু সংবাদপত্রে যেভাবে অর্থপাচারের কথা বলা হচ্ছে তা- অতিশয় উক্তি, অতিরঞ্জিত।’

বিএনপির পক্ষ থেকে গত কয়েকদিনে সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হলেও অর্থমন্ত্রী বলছেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দেশটিতে অনেক অর্থ লেনদেন হলেও তা অর্থপাচার নয়।’

তিনি বলেন, ‘সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার হয়নি। সংবাদপত্রে যেটা বেরিয়েছে সেটি লেনদেনের হিসাব।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে টাকা পাচার হয় না একথা আমি বলব না। হ্যাঁ, সত্যিই পাচার হয়, তা অতি যৎসামান্য। এটা নজরে নেয়ার মতো নয়।’

হল মার্ক কেলেঙ্কারিতে সোনালী ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট হলে সেসময় এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টরের মোট লেনেদেনের বিবেচনায় এটা কোন টাকাই নয়।’ সেসময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, ওই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ  ফাইন্যান্স ইন্টিলিজেন্স ইউনিট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। যা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

গত মাসে সুইস ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওই ব্যাংকে বাংলাদেশীদের ৫ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে।

তবে অর্থমন্ত্রী বলছেন, ‘বাংলাদেশের খাতে সুইস ব্যাংকের সম্পদ হচ্ছে ২০১৬ সালে ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এই সময়ে তাদের দেনা ৫ হাজার ৫৬০ কোটি। অর্থাৎ ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এবং তাদের কাছে জমা হয়েছে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকের হিসাব ব্যক্তিখাতে মোট দেনা ৩৯৯.৮ কোটি। যা মাত্র ৭ শতাংশ। ব্যক্তি সম্পদ ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ১৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, আমাদের এবং সুইজারল্যান্ডের। বাস্তবে মোটেই অর্থ পাচার নয়। এই ব্যাখ্যাটি অনেকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এই বিবৃতিতে তা- অবসান হবে বলেও উল্লেখ করেন মুহিত।

তিনি বলেন, সুইস ব্যাংকে ব্যক্তিখাতে অনেক হিসাব আছে। যারা বিদেশে চাকরি করে অথবা স্থায়ীভাবে বিদেশে কাজ করে। তাদের হিসাব এতে অন্তর্ভূক্ত আছে। তাদের কত টাকা আছে সেই তথ্য দিতে পারছি না। কারণ তাদের পাসপোর্টের হিসাব আমাদের কাছে নেই। কিন্তু আমাদের সাংবাদিকরা অত্যন্ত অন্যায়ভাবে এই টাকা পাচার বলে দিয়েছেন। সেজন্য দেশে একটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
x

Post A Comment: