আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাদিকুল ইসলাম মিলন ৬০ দিন পর ফিরে এসেছেন। মিলনের সহপাঠী ও তার মা মেরিনা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২ মাস পর ফিরলেন হাত-পা বাঁধা মিলন

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাদিকুল ইসলাম মিলন ৬০ দিন পর ফিরে এসেছেন। মিলনের সহপাঠী ও তার মা মেরিনা বেগম  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সাদিকুল ইসলাম মিলনের সহপাঠী শুভ বলেন, ‘গতকাল (রোববার) সকাল ১০টার দিকে মিলন বান্দরবান থেকে আমাকে ফোন দেয় এবং বাড়িতে ফোন দিয়ে টাকা চায়। পরে টাকা পাঠিয়ে তার বোনের বাসা গাজীপুরে আসতে বলা হয়। সে রাত আটটার দিকে গাজীপুরে পৌঁছায়। এখন সে তার বোনের বাসাতেই আছে। তবে আমার সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছে রোববার রাত নয়টার দিকে।’

মিলনের মা  বলেন, ‘আমার ছেলে হাত পা বাঁধা অবস্থায় বান্দরবানে ছিল। ফোনের পর টাকা পাঠাই এবং গাজীপুরে আসতে বলি। এখন সে আমার সাথে আছে। আমরা ডিবি কার্যালয়ে যাচ্ছি। সেখানে থেকে মোহাম্মপুরের বাসায় যাব।’

মিলন এতদিন কোথায় ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কিছুই বলতে পারছে না। কিছুই তার মনে নেই। চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে গেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবি প্রক্টর ড. নূরমোহাম্মদ  বলেন, ‘তার সহপাঠীরা আমাকে বলেছে, মিলন ফিরে এসেছে কিন্তু আমি এখনো তাকে দেখিনি। তাই শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না।’

গত ২৩ মে রাতে মোহাম্মদপুর আদাবরের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে মিলনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে পরদিন মিলনের পরিবার আদাবর থানায় একটি জিডি করে।

এদিকে জবি ছাত্র মিলনের সন্ধানের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছিল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের বলছিল, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডিএমপি কমিশনারের কাছেও তার সন্ধান চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু কোনো ফলাফল পায়নি।

Post A Comment: