আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতির নাম জানা যাবে। সেদেশের সমস্ত রাজ্য থেকে ব্যালট বাক্স এসে জমা পড়েছে সংসদ ভবনে। সেখানকার দোতলার ৬২নং কক্ষে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে গণনা শুরু হয়েছে। ভোটগণনার তদারকি করছেন লোকসভার সাধারণ সচিব অনুপ মিশ্র। বিকেল ৫টার মধ্যে বিজয়ীর নাম জানতে পারবেন দেশবাসী।
কে হচ্ছেন ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, চলছে গণনা

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতির নাম জানা যাবে। সেদেশের সমস্ত রাজ্য থেকে ব্যালট বাক্স এসে জমা পড়েছে সংসদ ভবনে। সেখানকার দোতলার ৬২নং কক্ষে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে গণনা শুরু হয়েছে। ভোটগণনার তদারকি করছেন লোকসভার সাধারণ সচিব অনুপ মিশ্র। বিকেল ৫টার মধ্যে বিজয়ীর নাম জানতে পারবেন দেশবাসী।


ভারতের আজকাল পত্রিকার খবরে বলা হয়, সংসদ ভবনের ব্যালট বাক্সটি দিয়েই গণনার সূচনা হয়েছে। তারপর নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী একে একে খোলা হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ব্যালট বাক্সগুলি। নির্বাচনী বিধি নিষেধ মেনে যারা ভোট দেননি, তাদের ভোট অবৈধ বলে গৃহীত হয়। গণনার শুরুতেই সেগুলি ছেঁটে ফেলা হবে। চারটি আলাদা আলাদা টেবিলে মোট ৮ দফায় ভোট গণনা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংসদদের ভোটমূল্যই বেশি। সাংসদ প্রতি প্রায় ৭০৮। তুলনায় একজন বিধায়কের ভোটমূল্য অনেকটাই কম। বিধায়কদের ভোটমূল্য নির্ধারিত তাদের রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে। রাজ্যের জনসংখ্যাকে প্রথমে মোট বিধায়ক সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়। তার পর সেই ভাগফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ করা হয়। সেই ভাগফল যদি পূর্ণ সংখ্যা হয়, তা হলে সেটাই সেই রাজ্যের প্রত্যেক বিধায়কের ভোটমূল্য। আর তা না হলে নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যাটিকে বেছে নেওয়া হয়। তাই যে প্রার্থী যত বেশি সংখ্যক সাংসদের ভোট পাবেন, তিনি ততটাই এগিয়ে থাকবেন। মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি যার ঝুলিতে এসে পড়বে, তিনিই বিজয়ী ঘোষিত হবেন।

এ বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় ১৭ জুলাই। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংসদ ভবন সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মোট ৩২টি ভোটকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে ভোটদান করেছেন ৪১২০ জন বিধায়ক ও ৭৭৬ জন সাংসদ। আগামী ২৪ জুলাই দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার পরদিন শপথগ্রহণ করবেন চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি।

৬৩ শতাংশের সমর্থনে ভর করে এনডিএ প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দের জয় একরকম নিশ্চিত। এনডিএর অন্তর্গত দলগুলি তো বটেই, তাকে ভোট দিয়েছে সংযুক্ত জনতা দল, বিজু জনতা দল, তেলেঙ্গনা রাষ্ট্র সমিতি, এআইএডিএমকে–র দু’‌টি শাখা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ‘‌যুব জন শ্রমিক রাইদু কংগ্রেস পার্টি’‌ও। তুলনায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ শতাংশের সমর্থন আদায় করতে পেরেছেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী প্রার্থী মীরা কুমার। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল তাকে ভোট দিয়েছে। কিছু আঞ্চলিক দল ও নির্দল প্রার্থীর সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে তাতে বিশেষ লাভ হবে না। তাই আরকে নারায়ণের পর, দেশের দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী রামনাথ কোবিন্দ।

Post A Comment: