বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারেক সালমনকে মামলাসহ হয়রানির ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তারিক সালমন পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দাওয়াত কার্ড ছাপান।
ইউএনওকে হয়রানি: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি

    বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারেক সালমনকে মামলাসহ হয়রানির ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তারিক সালমন পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দাওয়াত কার্ড ছাপান।


এতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ এনে ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে গত ৭ জুন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ।

পুলিশ ইউএনওকে অপরাধীর মতো ধরে আদালতের হাজতখানায় নেয়। পরে অবশ্য তার জামিন হয়। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসনসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মামলার বাদী ওবায়েদুল্লাহকে গত শুক্রবার দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে ইউএনও’র বিরুদ্ধে করা মামলাও।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা একটা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের একজন যুগ্মসচিব, আইন ও বিচার বিভাগের একজন যুগ্মসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন যুগ্মসচিব সদস্য হিসেবে রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ সদস্যের এই কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। ২২ জুলাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হয়েছি কিনা। ডেভিয়েশন বা ওভার এক্সসেস অব পাওয়ার বা আইনের বিচ্যুতি হয়েছে কিনা এটা উনারা দেখবেন।’

এই ছবির জন্যই আগের বিভাগীয় কমিশনার ও বর্তমান জেলা প্রশাসক গত এপ্রিল মাসে ইউএনও তারেক সালমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন। ইউএনও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন।

এখন ওই দুই কর্মকর্তার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অবস্থান কী- জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, ‘ওটা আমরা নিষ্পত্তি করে দিয়েছি, ওটাকে নথিজাত বলে। ওখানে (প্রস্তাবে) অ্যাকশন নেওয়ার মত আমরা কিছু দেখিনি।’

ঘটনাটা এ পর্যায়ে আসার পেছনে মাঠ প্রশাসনের গাফিলতি আছে কীনা- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গাফিলতি আছে কীনা সেটার জন্য আমরা কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করব। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা যাদের দোষী সাব্যস্ত করছি বা সরকার মনে করবে তাদের ব্যাপারে হয়তো অ্যাকশনে যেতে পারে। এটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

Post A Comment: