রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন টি-বাঁধ। নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পুলিশ লাইনের সামনের এই গ্রোয়েনে গতবছর ফাটলও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু পানি কমার পর সেটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। এবার আবারও পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করায় সেখানে ফেলা হচ্ছে বালুর বস্তা।
নদীভাঙন ঠেকাতে রাজশাহীর টি-বাঁধে এবারও বালুর বস্তা!


রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন টি-বাঁধ। নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পুলিশ লাইনের সামনের এই গ্রোয়েনে গতবছর ফাটলও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু পানি কমার পর সেটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। এবার আবারও পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করায় সেখানে ফেলা হচ্ছে বালুর বস্তা।


পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কাজের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এভাবে ভাঙন ঠেকানোও সম্ভব নয়। আর স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বালুর বস্তা ফেলার নামে বছর বছর এখানে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় করা হচ্ছে। এতে পকেট ভরছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, টি-গ্রোয়েনের পাশেই বড় একটি বালুর স্তুপ। সেখান থেকে বালু ভরা হচ্ছে জি-ও ব্যাগে। নৌকায় তুলে সেসব ব্যাগ টি-বাঁধের আশপাশে ফেলাও হচ্ছে। বেশকিছু শ্রমিক এসব কাজ করছেন। আর একটু দূরেই তৈরি করে রাখা হয়েছে কিছু কংক্রিটের ব্লক।

স্থানীয়রা জানালেন, টি-বাঁধের পাশে যেখানে এখন বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, শুষ্ক মৌসুমে তার পাশ থেকেই তোলা হয় বালু। এতে নদীতে একটু পানি বাড়লেই ঝুঁকিতে পড়ে টি-বাঁধ। এবারও সামান্য পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাঁধটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বাঁধের এমন ঝুঁকির কথা শুনে দুপুরে রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবুর নেতৃত্বে দলটির স্থানীয় কয়েকজন নেতা টি-বাঁধ পরিদর্শনে যান। এ সময় দেবাশীষ প্রমানিক দেবু বলেন, জি-ও ব্যাগ ফেলাটা কোনো সমাধান নয়। এর কোনো যৌক্তিকতাও নেই।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এখান থেকেই বালু তোলা হয়। আর এখন সেখানেই বালু ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি হাস্যকর। রাজশাহী শহরকে রক্ষা করতে হলে এই এলাকা থেকে বালু তোলা বন্ধ করতে হবে। তারপর টি-গ্রোয়েনের স্থায়ী সংস্কার করতে হবে।

পদ্মার পানির তোড়ে গতবছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই টি-গ্রোয়েনটিতে ফাঁটল দেখা দেয়। এতে  প্রায় ৫ মিটার ভেঙে যায়। এছাড়া আরও প্রায় ৫ ফুট দেবে যায়। এই বাঁধ ভেঙে গেলে ভাঙন ধরবে শহর রক্ষা বাঁধে। এতে সহজেই বিলিন হয়ে যাবে পুুলিশ লাইনসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশকিছু বাংলো। পাশাপাশি শহরেও ঢুকবে পানি।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার পানির বিপদসীমার ১৮ দশমিক ৫০ মিটার ওপরে। গতবছর বিপদসীমার মাত্র ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল পানি। এতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় টি-বাঁধ। এবার গতবারের মতো পানি প্রবাহিত হলেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ওই এলাকায় পানির প্রবাহ ছিল ১১ দশমিক ২৯ মিটার। গত প্রায় ১০ দিন থেকে নদীর পানি বাড়ছে।

পাউবোর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, গতবছর টি-বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি সংস্কারসহ আরও কয়েকটি কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ে তারা সোয়া দুই কোটি টাকার চাহিদা দেন। কিন্তু বরাদ্দ মেলে ৫০ লাখ টাকা। সেই টাকাতেই টি-বাঁধে জি-ও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, তবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে সোয়া দুই কোটি টাকারই। এর মধ্যে জিওব্যাগ ফেলাসহ ব্লক স্থাপন এবং টি-বাঁধের ওপরের কাঁটাতারের জাল বসানোর কাজ আছে। রাজশাহীর এএস কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত কাজ চলবে বলেও জানান তিনি।

এসব কাজের মধ্যে দিয়ে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে কী না, জানতে চাইলে প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ না পেয়ে তারা ‘সঠিকভাবে’ কাজ করতে পারছেন না। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে যা কাজ হয় তাই করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন সরকারের পানি বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান।

তিনি  বলেন, টি-বাঁধে যে কাজ চলছে তার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। গবেষণা না করেই সেখানে অপরিকল্পিতভাবে জি-ও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। এতে ভাঙনের ঝুঁকি কমছেও না।

Post A Comment: