হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পর্যালোচনা করে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি কিশোর কুমার কর।

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পর্যালোচনা করে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি কিশোর কুমার কর।


তিনি বলেন, আলোচিত এ মামলার রায়ে আরো কয়েকজনের কঠিন শাস্তির প্রত্যাশা ছিল। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আমরা আপিল করব।

বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় রায় ঘোষণা শেষে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ভবনের নিচে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

চার শিশু হত্যা মামলার রায়ে ৩ জনের ফাঁসি ও ২ জনের ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রুবেল মিয়া, আরজু মিয়া ও উস্তার আলী।

এদের মধ্যে উস্তার আলী পলাতক রয়েছেন।

সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জুয়েল মিয়া ও সাহেদ আলী ওরফে সায়েদ।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আবদুল আলী বাগাল, বেলাল মিয়া ও বাবুল মিয়া।

এদের মধ্যে বাবুল ও বেলাল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে সকাল থেকে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। সকাল পৌনে ১১টার দিকে কারাবন্দি ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের আদালতে তোলা হয়।

প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। বেলা পৌনে ১২টায় রায় ঘোষণা শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ভবনের নিচে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আবদুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।

মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র।

নিখোঁজের ৫ দিন পর স্থানীয় ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় বাহুবল থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া।

২০১৬ বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন ৯ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

Post A Comment: