অবিরাম বর্ষণের কারণে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এতে জেলার রাজনগর ও সদর উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।
The-increase-in-the-haor-the-communication-system-is-in-turmoil

    অবিরাম বর্ষণের কারণে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এতে জেলার রাজনগর ও সদর উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।


বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ঢেউবন ও উত্তর সারমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকার লোকজনের চলাচলের প্রধান পাকা সড়ক মধুর দোকান- সারমপুরের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান। অনেকে নৌকা দিয়ে চলাচল করছেন।

নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। বাড়িতে বসবাসকারী লোকজন ঘরের ভেতরে বসেই টুকটাক কাজ সারছেন

ঢেউবন গ্রামের সুধাংশু সরকার বলেন, কেউ বাড়িঘরে মাচা বেঁধে বাস করছেন। কেউ বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন।

উত্তর সারমপুর গ্রামের রশিদ আহমদ নৌকা বানানোর কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘পানির লাগি মাইনসে ঘর থাকি বাইরইতো পারের না। এখন যে পারের, নাও বানার।’

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাউয়াদীঘি হাওরের বন্যায় রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের প্রায় পুরোটা এবং মুন্সীবাজার, মনসুরনগর, রাজনগর সদর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের আংশিক প্লাবিত হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর ইউনিয়নের একাটুনা ও আখাইলকুরা ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওরসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাজনগর- বালাগঞ্জ সড়কে মাসখানেক ধরে বাস চলাচল বন্ধ। সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। অল্প কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী আনা-নেওয়া করেছে। পাঁচ-সাত দিন ধরে সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।

রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের আখালি সেতুর কাছে বুধবার সকালে দেখা যায়, প্রায় ১০টি নৌকা এসে ভিড়েছে। নৌকাগুলো আশপাশের গ্রাম থেকে এসেছে। সেখানে সড়কের ওপর দাড়িয়ে আছে সাত-আটটি অটোরিকশা। নৌকায় আসা লোকজন এখান থেকে অটোরিকশায় রাজনগর উপজেলা সদর, জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক শিবলু মিয়া বলেন, ‘প্রায় এক মাস বাস বন্ধ। কিছু সিএনজি (অটোরিকশা) চলত। এখন সবকিছু একবারে বন্ধ।’

রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুন নূর আহমদ বলেন, দিন দিন পানি বাড়ছে। তার ইউনিয়নে ৩৭টি গ্রামের ৩৫টিই প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাউয়াদীঘি হাওর থেকে কুশিয়ারা নদীর পানি সামান্য নিচে। মনু নদ প্রকল্পের কাশিমপুরে স্থাপিত পাম্প হাউসের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খুব একটা পানি কমছে না। বৃষ্টি হলেই পানি বাড়ছে।

পাউবো মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিশাল অঞ্চলজুড়ে কাউয়াদীঘি হাওর। প্রতিদিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তা পাম্পে সেচ দিয়ে বের করা সম্ভব নয়। এই পাম্প মূলত আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষার জন্য করা হয়েছে। এত পানি সেচ দেওয়ার সুযোগ নেই। কুশিয়ারার পানি হাওরের নিচে নামলে গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। কুশিয়ারার পানি ওপরে থাকলে গেট বন্ধ থাকে।

Post A Comment: