পাবনা জেলার নয়টি উপজেলাতে অতি বর্ষণের ফলে বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রোপা আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জেলাতে ৫১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমি আবাদের জন্য ২ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের। এ আবাদ থেকে প্রায় দেড় লাখটন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্মাণের জন্য বীজ ফেলেছে কৃষক। কিন্তু বিরতিহীন বর্ষণের ফলে জেলায় নির্মিত বীজতলা সম্পূর্ণই পানির নীচে চলে গেছে। সেচসহ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও এ বীজতলা রক্ষা করতে পারছেনা বলে জানিয়েছে কৃষকেরা।
অতি বর্ষণে পাবনায় রোপা আমন আবাদ অনিশ্চিত

    পাবনা জেলার নয়টি উপজেলাতে অতি বর্ষণের ফলে বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রোপা আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জেলাতে ৫১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমি আবাদের জন্য ২ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের। এ আবাদ থেকে প্রায় দেড় লাখটন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্মাণের জন্য বীজ ফেলেছে কৃষক। কিন্তু বিরতিহীন বর্ষণের ফলে জেলায় নির্মিত বীজতলা সম্পূর্ণই পানির নীচে চলে গেছে। সেচসহ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও এ বীজতলা রক্ষা করতে পারছেনা বলে জানিয়েছে কৃষকেরা।


পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক বিভুতি ভুষন সরকার জানান, পাবনা জেলার নয়টি উপজেলাতে খরিপ-২ মৌসুমে ৫১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ জন্য ২হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্মাণের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করার পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে কৃষকেরা বীজতলা নির্মাণের জন্য প্রায় ৫শ হেক্টর জমিতে বীজ বপন করেছে। নির্মিত এ সব বীজতলায় চারা এখনো খুব ছোট রয়েছে। ফলে অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলাগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। কৃষি দফতরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণ বিষয়টি পর্যবেক্ষনসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। ক্যানেলের মাধ্যমে বীজতলা থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে একাধারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বীজতলাগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পাবনা সদর উপজেলার ঘড়নাগরা গ্রামের কৃষক কানু প্রামানিক জানান, তার জমি আবাদের জন্য বীজতলা নির্মাণ করেছিল। অতি বৃষ্টিতে বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ বীজতলা রক্ষা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা একই গ্রামের আব্দুল্লাহ প্রামানিকের। তিনি জানান, বীনা-৭ জাতের ধান দ্রুত পেকে যায়। সে কারনে একটু অগ্রীম এ বীজতলা নির্মাণ করতে হয়। সে বীনা-৭ জাতের বীজতলা নির্মাণ করেছিল। কিন্তু চলমান বর্ষনের ফলে তার বীজতলার একই অবস্থা বিরাজ করছে।

গঙ্গারামপুর গ্রামের কৃষক হাজী বাদশা জানান, বীজতলা নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মিত বীজতলাগুলো রক্ষা করা না গেলে আবাদ মৌসুমে চারা সঙ্কট দেখা দেবে। অন্য জেলা থেকে চড়া দামে চারা কিনতে হবে। এতে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সময়মত চারা না পেলে অনেক জমি অনাবাদি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি দফতরের আবাদের পরিকল্পিত জমি পূরন না হাবার সম্ভাবনা বিরাজ করবে। ফলে জেলার খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে।

Post A Comment: