ভারত ও পাকিস্তান, এই উপমহাদেশের চিরশত্রু দেশ। পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটি তাদের সমরাস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলেন পরস্পরকে ঘায়েল করতে।

    ভারত ও পাকিস্তান, এই উপমহাদেশের চিরশত্রু দেশ। পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটি তাদের সমরাস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলেন পরস্পরকে ঘায়েল করতে।


কিন্তু সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ভারত তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পাকিস্তান নয়, এখন চীনের দিকেই তাক করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত যেসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, তার সবগুলোই নিজ ভূখণ্ড থেকে চীনের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম।

ডিজিটাল জার্নাল ‘আফটার মিডনাইট’র জুলাই-আগস্ট সংখ্যায় দুই মার্কিন বিশেষজ্ঞের প্রকাশিত নিবন্ধে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। খবর এএফপি ও এনডিটিভির।

‘ইন্ডিয়ান নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ২০১৭’ শিরোনামের নিবন্ধে হান্স এম ক্রিস্টেনসেন ও রবার্ট এস নরিস জানান, ১৫০-২০০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত প্লুটোনিয়াম রয়েছে ভারতের হাতে। কিন্তু তারা মাত্র ১২০-১৩০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড তৈরি করেছে।

এতে বলা হয়, আগে যেখানে ভারতের নিউক্লিয়ার স্ট্রাটেজির লক্ষবস্তু থাকতো পাকিস্তান, সেখানে এখন চীনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই গতিধারা আগামীর ভারতের কৌশলের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, ভারত তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়মিত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন নতুন প্রযুক্তি যোগ করছে।

দুই মার্কিন বিশেষজ্ঞের লেখা থেকে জানা যায়, নয়াদিল্লি বর্তমানে সাতটি নিউক্লিয়ার সিস্টেম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি এয়ারক্রাফ্ট, চারটি স্থলভিত্তিক ব্যালেস্টিক মিসাইল ও একটি সমুদ্রভিত্তিক ব্যালেস্টিক মিসাইল।

আরো চারটি নিউক্লিয়ার সিস্টেম যোগ করা হবে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী দশকের মধ্যেই দূরপাল্লার ও সমুদ্রভিত্তিক সেসব নিউক্লিয়ার সিস্টেম যোগ করা হবে।

ভারত অন্তত ৬০০ কেজি প্লুটোনিয়াম উত্পাদন করতে সক্ষম, যা ১৫০-২০০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড তৈরির জন্য পর্যাপ্ত।

ক্রিস্টেনসেন ও নরিসের আর্টিকেলে আরো বলা হয়, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-১ থেকে উন্নয়ন করে অগ্নি-২ করা হচ্ছে। এটা ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতে হামলা করতে পারে বলে জানা যায়। দক্ষিণ ভারত থেকে পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন লক্ষবস্তুতে এটা আঘাত হানতে সক্ষম।

পরবর্তীতে অগ্নি-৪ ও অগ্নি-৫ নিয়ে আসা হবে যেগুলো পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম হবে। এটা সম্ভব হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে একেবারে বেইজিং ও সাংহাইয়ে আঘাত হানতে সক্ষম হবে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো।

Post A Comment: