নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি জমাট বেঁধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। অনেক বাড়িতেও জমেছে হাঁটু পানি।
ডিএনডি বাঁধের জলাবদ্ধতায় দুর্বিষহ নারায়ণগঞ্জের নগরজীবন

    নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি জমাট বেঁধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। অনেক বাড়িতেও জমেছে হাঁটু পানি।


বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ডিএনডির অভ্যন্তরে এবারের জলজট অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি এমনভাবে জমাট বেঁধেছে যা ছিটাফোটাও নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে প্রতিটি এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাসা থেকে কেউ নতুন জামা কাপড় পরে বের হতে পারছে না। স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের পানি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে নানা রোগ ব্যাধির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ডিএনডির বাইরে শহরজুড়ে জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছে শহরবাসী। দুর্ভোগের মধ্যেই পানি দিয়েই তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।


সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশেও দেখা যায় পানি জমতে। বৃষ্টিতে বাসা বাড়িতে অবস্থান করা মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া তেমন বের হতে দেখা যায়নি।

এছাড়াও দুর্ভোগে পড়েছে ডিএনডির অভ্যন্তরে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের এলাকার মানুষ। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে কিছু কিছু স্থানে হাঁটুপানি হয়ে রয়েছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে করে এসব এলাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ বলেন, ফতুল্লার বাগটুমারি নামের বিশাল এ খালটি এতদিন কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকায় পরিষ্কার করা হতো। কিন্তু গত বছর এ বিষয়ে অডিট আপত্তির কারণে আমরা এ প্রকল্পের টাকায় খালগুলো পরিষ্কার করতে পারিনি।

মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে একাধিকবার চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি যে, খাল পরিষ্কারের জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ উপজেলা প্রশাসনের নাই। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তাকে জানানো হয় কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ দিয়ে নতুন করে খাল খনন করা যাবে। তবে খাল পরিষ্কার করা যাবে না। আর এ কারণেই এ বছর মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাচ্ছে এ প্রকল্পের টাকা।

ইউএনও আরও জানান, শহরতলীর জলাবদ্ধতা দূর করতে আপাতত উন্নয়ন তহবিলের টাকা দিয়ে ভেকু এনে উপজেলা পরিষদ থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত নিষ্কাশন খালটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সব নিষ্কাশন খাল পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ উপজেলা প্রশাসনের হাতে নেই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হলে এখানকার জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, জাতীয় সংসদে আমার প্রথম ভাষণই ডিএনডি বাঁধের জলাবদ্ধতা নিরসনের ওপর। নারায়ণগঞ্জবাসীর দুর্দশা লাঘবের জন্য প্রধানমন্ত্রী একনেকে ৫৭০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন করেন। প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সরেজমিন এসে ডিএনডি বাঁধের ভেতরের পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখে যান। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নকশার জন্য প্রায় এক বছর ধরে ঝুলে আছে। নকশা পেলেই কাজ শুরু হবে। তখন আর এ জলাবদ্ধতা থাকবে না।

Post A Comment: