ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এ বন্যা দেখা দেয়। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।



    ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এ বন্যা দেখা দেয়। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।


হাতীবান্ধা উপজেলার উওর ধুবনী গ্রামে সোমবার সকালে একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের দোয়ানী পয়েন্টে সকালে বিপদসীমার ৩২ সে. মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতি মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিস্তাপাড়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগের বন্যায় চর এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। ওই উপজেলার উওর ধুবনী গ্রামে বাঁধ ভেঙে গেছে। যে কারণে ওই এলাকায় বেশকিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দি লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। প্রচণ্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের সবকয়টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুন্ড এলাকার চরে ১৮ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার একর আমন ধানের বীজতলাসহ অনেক ফসলি ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ ধুবনী গ্রামের শামসুল হক, শরীফ মোল্লা, আব্দুস ছালাম, আবুল কাশেম, নুরল হকসহ অনেক পানিবন্দি পরিবার অভিযোগ করেন, আমরা কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, তার ইউনিয়নের উওর ধুবনী গ্রামে একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে বেশকিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খাঁন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবারগুলো খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে। ত্রাণের জন্য উচ্চ পার্যায়ে আবেদন করা হয়েছে।

Post A Comment: