জবাইয়ের জন্য গরু বিক্রি নিষিদ্ধ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা নির্দেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে গত ৩০ মে মাদ্রাজ হাইকোর্ট কয়েক সপ্তাহের জন্য সরকারি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। মঙ্গলবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল ভারতের শীর্ষ আদালত। সরকারি আদেশ ‘পছন্দমত জীবিকা আহরণ ও খাবারের স্বাধীনতার লঙ্ঘন’ বলে মাদ্রাজ হাইকোর্টে ওই রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল।

    জবাইয়ের জন্য গরু বিক্রি নিষিদ্ধ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা নির্দেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে গত ৩০ মে মাদ্রাজ হাইকোর্ট কয়েক সপ্তাহের জন্য সরকারি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। মঙ্গলবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল ভারতের শীর্ষ আদালত। সরকারি আদেশ ‘পছন্দমত জীবিকা আহরণ ও খাবারের স্বাধীনতার লঙ্ঘন’ বলে মাদ্রাজ হাইকোর্টে ওই রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল।


জবাইয়ের জন্য বাজারে পশু কেনা-বেচার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গত ২৩ মে নির্দেশ জারি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। চাষের কাজ ছাড়া গরু, মোষ, বলদ, বাছুর এমনকি উটও কেনা-বেচা করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু আদালত বলছেন, কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। আদালত মনে করে, গবাদি পশুর ক্রয় বিক্রয়ের উপর অনেক মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।

আদালত বলেছে, আপাতত তিন মাস বিষয়টি নিয়ে আসা বিভিন্ন পরামর্শ এবং সমালোচনা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। সেই পর্যন্ত গোটা ভারতে গরু কেনা-বেচার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশ স্থগিত থাকবে।


নির্দেশ জারির সময় কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য বলেছিল, জনগণের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা আর দেশের কল্যাণের জন্যই হত্যার উদ্দেশ্যে গরু, মোষসহ গবাদি পশু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এছাড়াও রাজ্য সীমান্ত থেকে ২৫ কিলোমিটার ও দেশের সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো স্থানে পশুর বাজার বসানো যাবে না বলেও নির্দেশ জারি করা হয়। সীমান্তে বেআইনিভাবে পশু পাচার বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তখন কেন্দ্র জানায়।

সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্নাটকসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ দেখা দেয়। নির্দেশ জারির পরদিনই এর বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশনও জমা দেয়া হয়।


বিভিন্ন মহলের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান বিপন্ন হবে। সঙ্কটের মুখে পড়বে ভারতের চামড়া শিল্প।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে গরু জবাই এবং মাংস বিক্রির সন্দেহে বেশ কয়েকজন মুসলিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসন ছেড়ে না দেয়ায় মাংস খায় অভিযোগ এনে চলন্ত ট্রেনে এক মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

Post A Comment: