জীবন বসু চাকমা (৫৫)। এক মাস ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে আছেন। গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষ নিহত ও ২শ'র বেশি আহত হন। পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বজনহারা অনেকে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়েছে।
‘আর কতদিন আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে থাকব

    জীবন বসু চাকমা (৫৫)। এক মাস ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে আছেন। গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষ নিহত ও ২শ'র বেশি আহত হন। পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বজনহারা অনেকে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়েছে।


ভেদভেদী আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রের এক কোণে বসে পত্রিকা পড়ছেন কিনামনি পাড়ার বাসিন্দা জীবন বসু চাকমা।

পাহাড় ধসে তার পুরো ঘর ভেঙে যায় এবং তাদের পুরো পাড়াটাই ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

জীবন বসুর সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনার পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে আছি। সময়ও কাটছে না, আমার আবার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস, তাই পত্রিকা নিয়ে সারাদিন দেশ-বিদেশের খবর পড়ে সময় কাটাচ্ছি।

‘পাহাড়ধসের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষও আজ বড় দুর্ভোগে আছেন। কোথাও কোথাও এখনো বন্যার পানি নেমে যায়নি। সারাদেশে আমাদের মতো এখনো অনেক মানুষই আশ্রয়কেন্দ্রে আছে,’ উল্লেখ করেন তিনি।

জীবন বসু বলেন, ‘আমাদের এখন অতি শিগগিরই পুনর্বাসন করা দরকার। এভাবে আর কতদিন আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে থাকব? পাহাড় ধসের পর ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়াও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানেও অনেক আশ্রিত ছাত্র আছে, তাদের লেখাপড়ার কী হবে? আমার ছেলে-মেয়ে দুইটা এবার একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পড়ালেখা করতে হচ্ছে।’

‘আগে বিভিন্ন মানুষ আসতো। বিভিন্ন কাপড়-চোপড়, খাবার-দাবার দিতো, এখন এমন কেউই আসে না। দেখা যায় এ বৃষ্টির দিনে হালকা কাপড় পরেও আমাদের দিনরাত কাটাতে হচ্ছে। এখানে মানুষ খাওয়ার চেয়ে কাপড়-চোপড়ের কষ্টেই ভুগছে’, বলেন জীবন বসু।

ক্ষতিগ্রস্ত আগের জায়গায় ফিরে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি দেখে আমাদের আগের জায়গায় ঝুঁকিহীনভাবে বসবাস করা যাবে, তাহলে অবশ্যই যাব।’

তবে আগের জায়গায় পুনর্বাসন না করলে শহরের আশপাশে পুনর্বাসন করলে ভালো হয় বলে জানান তিনি।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য একটি টেকসই পুনর্বাসন প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো না করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো পাহাড় ধসের ঘটনায় কোনো লাশ আমাদের দেখতে না হয়।’

প্রবল বর্ষণের কারণে ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় ১২০ জন নিহত হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ২শ'র অধিক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৫০০ পরিবার। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩১টি বাড়ি, আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০। বাকিগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ধসের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা বেশির ভাগই এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের খাবারের যোগান দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

Post A Comment: