গুলশানের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মামলায় তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে পুলিশ যে শীর্ষ জঙ্গিদের খুঁজছিল তাদের মধ্যে দুইজন গত এপ্রিল মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন- বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী চকলেট ও মিজান নিহত

    গুলশানের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মামলায় তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে পুলিশ যে শীর্ষ জঙ্গিদের খুঁজছিল তাদের মধ্যে দুইজন গত এপ্রিল মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন- বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।


বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে বিশেষ অপরাধ সভায় এমন তথ্য জানানো হয় বলে উপস্থিত কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গুলশান হামলা মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে হামলার পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান ও হাদিসুর রহমান সাগর নামের শীর্ষ পাঁচ জঙ্গিকে মরিয়া হয়ে খুঁজছিল পুলিশ।

গত ৬ জুলাই শীর্ষ এই পাঁচ জঙ্গির একজন সোহেল মাহফুজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সোহেল পুলিশকে জানায় যে গত এপ্রিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গি বিরোধী অভিযান ঈগল হান্টে বাশারুজ্জামান ও ছোট মিজান নিহত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সভায় কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল মাহফুজ তাদের জানিয়েছে শিবগঞ্জের অপারেশনে বাশারুজ্জামান ও ছোট মিজান মারা গেছে। বাশারুজ্জামানের আরেকটি সাংগঠনিক নাম শাহেদ, তিনি নব্য জেএমবিতে ১১ দিনের জন্য আমির ছিল।

জঙ্গি সোহেলের দেয়া এই তথ্য সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে নিহত দুই জঙ্গির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে বলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি সূত্রজানিয়েছে।

নিহত এই জঙ্গি বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটই গুলশান হামলায় দুবাই থেকে আসা ১৪ লাখ টাকা বাংলাদেশে গ্রহণ করে বলে তথ্য রয়েছে তদন্ত সংস্থার কাছে। দুবাইয়ে পলাতক মুফতি শফিকুর রহমান নব্য জেএমবিকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা করতো। বাশারুজ্জামান ওই অর্থ সংগ্রহ করে মূল সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী কাছে দিতো। গুলশান হামলার পরিকল্পনা থেকে তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব কিছুতেই এই বাশারুজ্জামান জড়িত।

অন্যদিকে আরেক জঙ্গি ছোট মিজান গুলশান হামলাসহ নব্য জেএমবির দেশব্যাপী হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গ্রেনেডের যোগানদাতা। পুলিশ জানায় দুই মিজানের নেতৃত্বে গুলশান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়। তাদের দুই জনের বাড়িই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তাদের একজন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান যাকে এরই মধ্যে গুলশান হামলার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই বড় মিজানের নির্দেশনায়ই ছোট মিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও গ্রেনেড ঢাকায় আনার কাজ করতো

Post A Comment: