জঙ্গি সোহেল মাহফুজের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে শিগগিরই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। বুধবার ডিএমপি সদর দফতরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্তৃক ডিবি পুলিশকে দুটি মাইক্রোবাস প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘শিগগিরই গুলশান হামলার চার্জশিট’

    জঙ্গি সোহেল মাহফুজের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে শিগগিরই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। বুধবার ডিএমপি সদর দফতরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্তৃক ডিবি পুলিশকে দুটি মাইক্রোবাস প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


ডিএমপি কমিশনার বলেন, হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে ওই হামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ সময় জঙ্গি মাহফুজের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ৭ জুলাই রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পুষ্কুনি এলাকা থেকে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজসহ ৪ জনকে আটক করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও জেলা পুলিশ।

প্রথম দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় সোহেল মাহফুজের আরো ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে আদালতে নেওয়ার পথে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন সদ্য গ্রেফতার হওয়া এই জঙ্গি সোহেল মাহফুজ। পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের আমলে জঙ্গিবাদে জড়ান তিনি।

পরে জেএমবির শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হলে সংগঠনটির আমীর হন সাইদুর রহমান। ওই সময় জেএমবির শূরা (নীতি নির্ধারণী) কমিটির সদস্যপদ পায় মাহফুজ।

২০১০ সালের দিকে সাইদুর রহমান গ্রেফতার হন। এরপর দীর্ঘদিন আত্মগোপণে থেকে উত্তরাঞ্চলে জেএমবিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মাহফুজ।

নারায়ণগঞ্জে নিহত নব্য জেএমবির সমন্বয়ক ও গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল মাহফুজের। পরে তিনি নব্য জেএমবিতে যুক্ত হন।

এরপর থেকে তিনি নব্য জেএমবির অস্ত্র কেনা, গ্রেনেড তৈরি এবং সরবরাহসহ আইটি শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, বোমা তৈরি করতে গিয়ে সোহেল মাহফুজের বাঁ হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তিনি এক হাত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে দক্ষ। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

Post A Comment: