দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ রাসমেলায় জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আগামী ২২ আগস্ট অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে। দিনাজপুর পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির তারিখ জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদের আদালতে দিন ধার্য ছিল।
কান্তজিউ রাসমেলায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার অভিযোগ গঠন ২২ আগস্ট

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ রাসমেলায় জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আগামী ২২ আগস্ট অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে। দিনাজপুর পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির তারিখ জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদের আদালতে দিন ধার্য ছিল।


মামলার গ্রেফতারকৃত ৫ শীর্ষ জঙ্গি যথাক্রমে-শরিফুল ইসলাম ডেনিস ওরফে জিৎ (২৮), মোসাব্বিরুল আলম খন্দকার (২৫), সারওয়ার হোসেন বাবু (৩০), আব্দুর রহমান (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে সুজন ওরফে রাজিব গান্ধীকে (৩০) কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক এই মামলার পালিয়ে থাকা ৩ আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য ২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মামলার নথির সাথে সংযুক্ত করে পালিয়ে থাকা ওই ৩ আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

পালিয়ে থাকা জেএমবির ৩ সদস্য হলেন- বগুড়া শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী মোল্লার পুত্র রাজিবুল ইসলাম ওরফে বাধন ওরফে বাদল (২৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাচোল উপজেলার সদরপুর গ্রামের এনামুল হকের পুত্র আব্দুল খালেক ওরফে খালিদ ওরফে মামা (২৮) ও চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র জাকির হোসেন (৩০)।

দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাহেরুল ইসলাম জানান, এই মামলা তদন্তকালে ৪ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে পালিয়ে থাকা ৪ জেএমবি সদস্যের মধ্যে নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে সুজন ওরফে রাজিব গান্ধী ঢাকায় গ্রেফতার হলে তাকে এই মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। অপর পালিয়ে থাকা ৩ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারক গ্রেফতারি ও ক্রোকি পরোয়ানার জারি করেছেন।

মামলায় সরকারি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মিলে ৬১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৫ জেএমবি সদস্য ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচারকের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ রাস মেলার যাত্রা প্যান্ডেলে জেএমবি সদস্যরা অতর্কিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ করলে ৬ দর্শক গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়াও প্যান্ডেলের প্রায় ২০/২৫ জন আহত দর্শক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এই ঘটনার পর যাত্রা প্রদর্শন দেশব্যাপী বন্ধ হয়ে যায়।

এই ঘটনায় মেলার ইজারাদার হারেজ আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের আসামী করে কাহারোল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করলে বিচার কাজ শুরু হয়।

Post A Comment: