মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলায় ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার কারণে তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ। এর মধ্যে প্রাথমিক ১১২টি এবং ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এতে প্রায় ৪১ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বিদ্যালয়ের ভবন থেকে পানি নামলেও চারদিকে
মৌলভীবাজারে পানিবন্দী ১৩৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠদান বন্ধ

    মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলায় ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার কারণে তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ। এর মধ্যে প্রাথমিক ১১২টি এবং ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এতে প্রায় ৪১ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বিদ্যালয়ের ভবন থেকে পানি নামলেও চারদিকে

র রাস্তাঘাট এখনো তলিয়ে আছে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের আসা-যাওয়ার সুযোগ নেই।

শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও ঈদের বন্ধের পর ১ জুলাই বিদ্যালয় খুলেছে। এরপর হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওর এবং কুশিয়ারা নদীর পানিতে বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়।

বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পানিতে তলিয়ে যায়।

বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীপদ রঞ্জন দাস বলেন, ‘আমার স্কুলের ভবন থেকে পানি কিছুটা নেমেছে। কিন্তু রাস্তা ২ থেকে ৪ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসার অবস্থা নেই। নৌকা থাকলে ছাত্রছাত্রীরা আসতে পারত। এলাকায় নৌকাও বেশি নাই। এ অবস্থায় কিছুই করা যাচ্ছে না।’

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মনসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশের রাস্তাসহ চারদিকে পানি। একই অবস্থা সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। বিদ্যালয়ের ঢোকার রাস্তায় এক থেকে দেড় ফুট পানি। বিদ্যালয়ের সামনে হাঁটুপানি। আশপাশের বাড়িগুলোও পানিতে তলিয়ে আছে।

মদনগৌরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে কোমর পানি ঢেউ খেলছে। হাকালুকি হাওরের পানির সঙ্গে একাকার হয়ে আছে বিদ্যালয় এলাকা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলায় ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যায়। রোজার দীর্ঘ বন্ধের পর স্কুল খুললেও পানিবন্দী স্কুলে আর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে বন্যা কিছুটা কমলে কিছু স্কুল ভবন থেকে পানি নেমে যায়।

স্কুল থেকে পানি সরে যাওয়ায় ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পানি থাকায় ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ। তবে দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বন্ধ বিদ্যালয়গুলোতে পানি উঠেছে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে।

অনেক বিদ্যালয়ের বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল পানিতে ভাসছে। দরজা-জানালা পানিতে ডুবে যাওয়ায় তা পচে নষ্ট হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আলিম বলেন, ১৫২টি স্কুলে পানি উঠেছিল। এর মধ্যে ৪০টি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় সেগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। শিক্ষকদের বলা আছে, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়ামোছা করে স্কুল চালু করতে। বন্যায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আবদুল ওয়াদুদ বলেন, স্কুলের ভবন ও ভবনের বাইরে পানি থাকায় স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, যেগুলো থেকে পানি নেমেছে, সেগুলোতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। যখন যে স্কুল থেকে পানি নামবে, তখন সেটিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

Post A Comment: