ভারতীয় উপমহাদেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান নিয়োগদাতা হিসেবে যিনি জোরালোভাবে কাজ করে আসছেন, তার নাম মোহাম্মদ শফি আরমার।
শফির টার্গেট বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার তরুণেরা
   


 ভারতীয় উপমহাদেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান নিয়োগদাতা হিসেবে যিনি জোরালোভাবে কাজ করে আসছেন, তার নাম মোহাম্মদ শফি আরমার।


তিনি বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার তরুণদের ফেসবুক এবং বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে আকৃষ্ট করেন, নিয়োগ দেন আইএসে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী (এসডিজিটি)’ তালিকায় আইএসের এই নিয়োগদাতার নাম প্রকাশ করেছে। খবর এনডিটিভির।

শুক্রবার প্রকাশিত এনডিটিভি প্রতিবেদনে বলা হয়, শফিই প্রথম ভারতীয় আইএস নেতা, যার নাম যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকায় সংযুক্ত করেছে।

ভারতের কর্নাটকের ভাটকালের বাসিন্দা ৩০ বছরের এই যুবকের আরো অনেক নাম রয়েছে। কখনো তিনি ‘ছোটে মওলা’, কখনো ‘অঞ্জন ভাই’ কখনো বা ‘ইউসুফ আল-হিন্দি’ নাম নিয়ে আইএসে তরুণদের নিয়োগের কাজ করেন শফি আরমার। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিস জারি করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মোহাম্মদ শফি আরমার ভারতে বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন (এফটিও) ও এসডিজিটির প্রধান নিয়োগদাতা এবং নেতা। তিনি আইএসের প্রতি সহানুভূতিশীল তরুণদের নিয়ে কয়েক কিছু গ্রুপ তৈরি করেছেন। এসব তরুণ ভারতজুড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত। তারা হামলার ষড়যন্ত্র করে। অস্ত্র সংগ্রহ ও সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণের জন্য স্থান খুঁজে বের করার কাজ করে।

আরমারের বিষয়ে বলা হয়ে থাকে, ভারতীয় মুজাহিদীন ভেঙে যাওয়ার পর আরমার তার ভাইকে নিয়ে পাকিস্তান ছাড়েন। পাকিস্তানে ভারতীয় মুজাহিদীনের প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজসহ ভাটকাল ভাইদের সঙ্গে লড়াইয়ের পর আরমার আনসার আল তওহিদ গঠন করেন বলে মনে করা হয়।

পরে এই সংগঠনটি আইএসের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। অনেকবারই বলা হয়েছিল, সম্মিলিত বাহিনীর হামলায় বা ড্রোন হামলায় আরমার নিহত হয়েছেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আরমার বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রেন ওয়াশ ও নিয়োগ দিতে ফেসবুক অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন।

২০১৩ সালে নেপাল সীমান্তে ইয়াসিন ভাটকাল গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে আইএসের সঙ্গে আরমারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরো জোরেশোরে উঠে আসে।

ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ) মধ্য প্রদেশের রাটলামে সন্দেহভাজন আইএস সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পর আরমারের নামটি প্রথমবারের মতো নজরে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা জানান, আরমার ভারতে মুসলিম তরুণদের উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করতেন। অনলাইনের মাধ্যমে জুন্দ আল খলিফা-ই-হিন্দ এ তরুণদের নিয়োগ দিতেন।

দিল্লি ও হরিদ্বারে সন্ত্রাসী হামলার দায়ে আরো পাঁচজনের সঙ্গে আরমারের বিরুদ্ধে এনআইএ অভিযোগপত্র দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এসডিজিটি তালিকায় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আরো দু’জন আইএস নেতার নাম রয়েছে। তারা হলেন, উসামা আহমাদ আতার এবং মোহাম্মদ ইসা ইউসিফ সাকার আল বিনালি।

এর মধ্যে উসামা আইএসের জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে ইউরোপে হামলা পরিচালনার জন্য নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুসারে, তিনি ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসে হামলা ও ২০১৬ সালের মার্চে ব্রাসেলস হামলা সমন্বয়ে নেতৃত্ব দেন।

Post A Comment: