২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এবারে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে মানবসম্পদ খাত; যা জিডিপি'র ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
 


২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এবারে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে মানবসম্পদ খাত; যা জিডিপি'র ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ।


'উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের' শিরোনামে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন মুহিত; যা চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) মূল বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থেকে ২৬ শতাংশ বেশি।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দের ক্ষেত্রে আমরা প্রবৃদ্ধি সঞ্চারী মেগা প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন জোরদার করার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। এছাড়াও আঞ্চলিক সমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরত্ব পূর্বের ন্যায় অব্যাহত থাকবে। আগামী অর্থবছরে আমরা কতিপয় বৃহৎ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রকল্প সাহায্যের ব্যবহার করতে পারব বলে আশা করছি। এ প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রাক্কলন করা হয়েছে।'

মুহিত বলেন, প্রস্তাবিত এডিপিতে মানবসম্পদ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট খাত) খাতে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যোগাযোগ (সড়ক, রেল, সেতু ও যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সার্বিক কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে (কৃষি, পানি সম্পদ, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) ২১ দশমিক ২ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, 'বাজেটে এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে মানবসম্পদ খাতে। এই খাতে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৪ হাজার ০২৯ কোটি টাকা। এ বরাদ্দ জিডিপি'র ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৭ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৫ দশমিক ১ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৪ শতাংশ) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ২১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ) বরাদ্দ রাখা হয়েছে।'

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটেও এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ছিল মানবসম্পদ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট খাত) খাতে। মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৭ হাজার ২০৩ কোটি টাকা; যা জিডিপির ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা (জিডিপি'র ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ)।

এবারের বাজেটে এডিপিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো (সড়ক, রেল, সেতু ও যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে। এই খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১ হাজার ০৫৪ কোটি টাকা (জিডিপি'র (২৬ দশমিক ৮ শতাংশ)। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ১৬ হাজার ৮২০ কোটি টাকা (জিডিপির ১১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ০০১ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ), সেতু বিভাগে ৮ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৫ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ২ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১ দশমিক ৮ শতাংশ) বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

এরপর এডিপিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন (কৃষি, পানিসম্পদ, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে ৩২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা (জিডিপি'র ২১ দশমিক ২ শতাংশ)। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে ২১ দশমিক ৪৬৫ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১৪ শতাংশ), পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৩ শতাংশ), কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ৪ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৩ শতাংশ) বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এবারে জ্বালানি অবকাঠামো (বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ) খাতে এডিপির চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ ২০ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ)। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ১৮ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জন্য ২ হাজার ১১১ কোটি টাকা (জিডিপি'র ১ দশমিক ৪ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া এডিপিতে অন্যান্য খাতে ১৪ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৯ দশমিক ৬ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

Post A Comment: