পাহাড় ধসের আশঙ্কায় খাগড়াছড়ির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের টানা বর্ষণে জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে।
খাগড়াছড়ির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    পাহাড় ধসের আশঙ্কায় খাগড়াছড়ির ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের টানা বর্ষণে জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে।


সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এলিশ শরমিনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জেলা শহরের শহরের কলাবাগান, নেন্সিবাজার, শালবন, হরিনাথ পাড়া গ্যাপ, আঠার পরিবার এলাকায় ঝুকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে শুরু করে।

ইউএনও এলিশ শরমিন জানান, বর্ষণ শুরু হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। যাতে জানমালের ক্ষতি না হয় এ জন্য লোকাজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শালবনের জেলা প্রশাসনের একটি ডরমেটরিকে আশ্রয় শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে আশ্রিতদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. জসিম উদ্দীন জানান, ঝুঁকি জেনেও অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না। তারপরও তাদের বুঝিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, বর্ষণ শুরু হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৩০টি পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা মো. আলী অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করায় ঝুঁকি আরো বেড়েছে।

বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য আবু দাউদ অভিযোগ করেন, শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ বেড়েই চলেছে। কিন্তু পাহাড় কেটে বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধে প্রশাষনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। পাহাড় কাটা বন্ধে ২০১১ সালে প্রশাসনকে বেলা নোটিশ দিলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপনের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

খাগড়াছড়িতে প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে পাহাড়ের পাদদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর। বাড়িঘর নির্মাণে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোড। ফলে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। পাহাড় কাটা বন্ধ ও পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন বন্ধের উদ্যোগ না নিলে যেকোন সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টানা বর্ষণে ইতোমধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১৫০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেই সেনা কর্মকর্তাসহ মারা গেছেন ১০৯ জন।

Post A Comment: