যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-নড়াইল, যশোর- বেনাপোল ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। পাঁচ মাস আগে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই রুটের যানবাহনের ওভারলোড চলছে ঝিনাইদহ রুটে। যানজটে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। এবার ঈদে মহাসড়কগুলোতে আরও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

 যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-নড়াইল, যশোর- বেনাপোল ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। পাঁচ মাস আগে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই রুটের যানবাহনের ওভারলোড চলছে ঝিনাইদহ রুটে। যানজটে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। এবার ঈদে মহাসড়কগুলোতে আরও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।


সূত্র মতে, যশোর অঞ্চলের চারটি মহাসড়কে খানাখন্দ, যানজটে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। যশোর মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালি ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদের আগে ব্রিজটি চালুর সম্ভাবনাও নেই। ফলে যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ঈদে ঘরে ফিরতে চরম দুর্ভোগের শিকার হবে বলে মনে করছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

গত রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানেও মহাসড়কের জনদুর্ভোগ এড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, এবারের ঈদে দুর্ভোগ কমাতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। যশোর-খুলনা মহাসড়কের বকচর এলাকার রাস্তা বেহাল অবস্থা। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখানে সাময়িকভাবে মেরামত করলেও দুর্ভোগ কমছে না।

যশোর-ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের অবস্থাও খারাপ। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালিতে প্রায় পাঁচ মাস ধরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। সেই সঙ্গে ওই রুটে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ওই রুটের সব যানবাহন যশোর ঝিনাইদহ রুট হয়ে মাগুরায় যাচ্ছে। এতে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে ব্যাপক চাপ পড়ছে। ওভারলোড হওয়ায় ওই রুটে প্রতিদিন যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ। এভাবে ওভারলোড চললে রাস্তা আরও বিপদজনক হবে। ঈদে যাত্রীদের আরও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হবে। ওই রুটের যানজট কমাতে সীমাখালির ব্রিজটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।


তিনি আরও বলেন, যশোর-নড়াইল মহাসড়ক খানখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার ঈদে যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে জনদুর্ভোগ বাড়বে।

জানতে চাইলে দক্ষিণবঙ্গ বাস ট্রাক মালিক সমিতির আহবায়ক পবিত্র কাপুড়িয়া বলেন, যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। জনদুর্ভোগ বাড়ছে। যশোর থেকে ঝিনাইদহে যেতে আগে সময় লাগত ৫০ মিনিট। বর্তমানে সময় লাগছে ৩-৪ ঘণ্টা। গাড়ির চাপও বেড়েছে অনেক গুণ। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালি ব্রিজ ভেঙে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আগেও যানজট হতো। এখন বারো মাস যানজট লেগে থাকছে। একটু বাতাস হলেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের দুর্ভোগের আর শেষ নেই। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তেমন কোন পদক্ষেপ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার কাছে বলবো, সরকার তো দেখছে জনগণ কীভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আমরা লিখিতভাবে কাউকে এ বিষয়ে বলিনি।

জানতে চাইলে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাংগীর আলম বলেন, যশোরে মহাসড়কে তেমন সমস্যা নেই। বর্ষাকালে সড়কের দুই জায়গায় গর্ত হতে পারে। সেটি মেরামতের কাজ চলছে। ঈদে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে আশাবাদী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যশোর-খুলনা মহাসড়কের বকচর এলাকার সমস্যাটি সাময়িক। সেটি মেরামতের চেষ্টা করছি। কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Post A Comment: