ভারতের গরুর মাংস নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে মিজোরামের মানুষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সোমবার প্রায় দু’হাজার মানুষ একসঙ্গে গরুর মাংস খেয়ে এই প্রতিবাদ জানায়।
মিজোরামে একসঙ্গে গরুর মাংস খেয়ে প্রতিবাদ 

ভারতের গরুর মাংস নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে মিজোরামের মানুষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সোমবার প্রায় দু’হাজার মানুষ একসঙ্গে গরুর মাংস খেয়ে এই প্রতিবাদ জানায়।


এদিন মিজোরাম রাজ্যের রাজধানী আইজলে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এসেছিলেন। ফলে রাজ্যের বিধানসভায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের কথা আগে থেকেই প্রচার করা হয়।

প্রতিবাদ জানাতে তাই ভারী বর্ষণকে উপেক্ষা করে ভানাপা পাহাড়ে বিধানসভার সামনে জড় হন হাজার হাজার মানুষ। মিজোরামের অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান জোলাইফ এই অভিনব আন্দোলনের ডাক দেয়। তাদের দাবি, ভারতের সংবিধান সব ধর্মের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। সেখানে বিশেষ কোনো ধর্মের মানুষের খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়।

জোলাইফের আহ্বায়ক রেমরুলা ভেরতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানুষ কি খাবে আর খাবে না তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। এত কোনো রাজনীতি খাটে না। ভারতের সংবিধান সব ধর্মের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। সেখানে গরুর মাংস খাওয়াও নিষিদ্ধ নয়। তাই অধিকার রক্ষার্থে মিজোরামের বাসিন্দাদের এই অরাজনৈতিক প্রতিবাদ।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়ে যান, মানুষের খাদ্যাভ্যাসের উপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না সরকার। 

ভারতে গরুর মাংস নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন চরমে। সম্প্রতি গরু ও মহিষের মাংস বিক্রির ওপর দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক। এরপরই বিভিন্ন রাজ্যে দেখা দেয় এর সমর্থনে ও প্রতিবাদে নানারকম কর্মসূচি।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের ৮৭ ভাগ মানুষই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের। মুসলমান রয়েছে দেড় শতাংশ। আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা মাত্র ২ দশমিক ৭৫ ভাগ। এখানকার উপজাতিদের মধ্যেও গরুর মাংস বেশ জনপ্রিয়। তাই সরকারের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা।

Post A Comment: