যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে মঙ্গলবার রাতে লাগা আগুন ওলট পালট করে দিয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের জীবন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই অগ্নিকাণ্ড ব্রিটেনের সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে দিয়েছে।
লন্ডন অগ্নিকাণ্ড: মা নেমে দেখলেন সন্তান নেই

    যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে মঙ্গলবার রাতে লাগা আগুন ওলট পালট করে দিয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের জীবন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই অগ্নিকাণ্ড ব্রিটেনের সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে দিয়েছে।


ওই ভবন থেকে যারা বেঁচে ফিরেছেন তারা একটা কথাই বলছেন, “দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে এলাম।” লন্ডনের ফায়ার সার্ভিসের কমিশনার ড্যানি কটনও বলছেন, “২৯ বছরের পেশাগত জীবনে এমন অগ্নিকাণ্ড দেখিনি।”

মঙ্গলবার রাতে লাগা আগুন বাগে আনতে বুধবার গড়িয়ে যায়। বাসিন্দারা ভয়াবহ আগুনের সঙ্গে কী ভাবে লড়াই করেছেন তার বর্ণনা করেছেন হাদিল আলামিলি। তার কথায়, “২৪ তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন এক জন। তার আগে টর্চ নাড়িয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।” কিন্তু তার কাছে পৌঁছতে পারেননি কেউ। এরপর শরীরে আগুন নিয়েই ওপর থেকে ঝাঁপ দেন সাহায্যপ্রার্থী। কেউ আবার গায়ে তোয়ালে কিংবা স্লিপিং স্যুট পরেই নেমে এসেছিলেন।



এমন অসংখ্য কাহিনীর মধ্য থেকে এক মা’র কষ্টের কথা তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা। এক প্রতিবেদনে ভবনের বাসিন্দা মা’র সন্তানদের হারিয়ে ফেলার বেদনাদায়ক বর্ণনা উঠে এসেছে।



প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই রাতে ওই মা বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে শোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত তখন দেড়টা। এসময় এক বন্ধু ফোনে জানালেন, তোমাদের ভবনে তো আগুন! শুনেই বাচ্চাদের তুলে নিয়ে দরজার দিকে দৌড়ান তিনি। দরজা খুলতেই আগুনের আঁচ শরীরে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। ভয়ে তাই দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। পরে পুরো ভবনে থাকা একমাত্র জরুরী সিড়ি বেয়ে নেমে আসেন।

কিন্তু নিচে এসে দেখেন তার সঙ্গে ৪ সন্তান রয়েছে। বাকি দু’জন সঙ্গে নেই। নিচে খোঁজার পরও তাদের হদিশ পেলেন না। মাত্র পনেরো মিনিটে ভবনের আগুন এত ভয়ংকর হয়ে উঠবে তা কেউ বুঝেতেই পারেনি। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের আতঙ্কে হুড়োহুড়ির মধ্যে কে কোথায় ছিটকে গিয়েছেন জানেন না। কোন মতে যারা বেঁচে গিয়েছেন, তাদেরও নিখোঁজ স্বজনদের কথা ভেবে উদ্বেগ কাটছে না।

ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া আরও একজন সৌভাগ্যবান হলেন হানান ওয়াহাবি। ২৪ তলা ভবনের নয় তলায় থাকতেন ৩৯ বছরের এই নারী। রাত একটা নাগাদ ধোঁয়ার গন্ধে তার ঘুম ভেঙে যায়। হানানের বর্ণনা হচ্ছে, “বসার ঘরের জানালা দিয়ে গলগল করে তখন ধোঁয়া ঢুকছে। উঠে গিয়ে বাইরে তাকাতেই বুঝলাম পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমার জানালার পাশেই আগুনের ভয়াল আঁচ টের পেলাম।” এমন অবস্থায় জানালা বন্ধ করেই বাড়ির লোকদের নিয়ে হানান বাইরে বের হয়ে আসেন।

ঠিক তখনই তার মনে পড়ে ২১ তলায় যে বড় ভাই রয়েছে! তখনও আগুন অত উপরে ওঠেনি। ভাইকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে হানান বেরিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ভাই তাকে বলেন, ‘মেঝেতে তোয়ালে পেতে এক ঘরে সবাইকে বসতে বলেছে ফায়ার সার্ভিস। তাই বের হচ্ছি না। কিন্তু চারিদিকে খুব ধোঁয়া।’ রাত দু’টার পর থেকে অবশ্য আর ফোনে পাননি ভাইকে।

ভবনটির ১২০টি ফ্ল্যাটের এমন গল্প ঘরে ঘরে। তবে ক’জনের বেঁচে ফেরার সুযোগ হবে, সেই চিন্তাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গ্রেনফেল টাওয়ারকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের ভেতর থেকে আর কারও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই।

Post A Comment: