ছিনতাইকারীর চাকুর আঘাতেই খুন হন মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা ব্রিফকেস দিতে অস্বীকার করায় ছিনতাইকারীরা চাকু দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।যাত্রাবাড়ী থানায় বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানালেন ওয়ারী উপ-পুলিশ কমশিনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
ছিনতাইকারীর হাতেই খুন হন মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর

    ছিনতাইকারীর চাকুর আঘাতেই খুন হন মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা ব্রিফকেস দিতে অস্বীকার করায় ছিনতাইকারীরা চাকু দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।যাত্রাবাড়ী থানায় বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানালেন ওয়ারী উপ-পুলিশ কমশিনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।


গ্রেফতারতরা হলেন—ফয়সাল ইসলাম মোমেন (২১), পরশ ওরফে পলাশ (২৫), মো. রানা বেপারী (১৯), মাসুদুর রহমান ওরফে শান্ত (১৯) ও ফরহাদুল ইসলাম সিহাব (১৭)।

ফরিদ উদ্দিন জানান, মুক্তিযোদ্ধা্ জাহাঙ্গীর আলমের রিকশা গতিরোধ করে ছিনতাইকারীরা ব্রিফকেস নেওয়ার চেষ্টা করলে ভিকটিম ব্রিফকেসসহ পালানোর সময় তাকে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। তারপর শুধু ব্রিফকেস নিয়েই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তেমনি বেরিয়ে এসছে বলে জানালেন ডিসি ফরিদ উদ্দিন।

তিনি জানান, গ্রেফতাররা ছিনতাইকারী দলের সদস্য। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বরপা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. রানা বেপারী ও পরশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় বন্দর থানার মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত অপর আসামি মাসুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার বিবির বাগিচা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো দু’জন ফরহাদুল ইসলাম ও ফয়সাল ইসলাম মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের পাশে একটি বাড়িতে থাকতেন। ১ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে যাওয়ার জন্য রিকশায় করে যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন।

ধলপুরের ব্রাহ্মণ-কিরণ এলাকায় পৌঁছলে তার রিকশা গতিরোধ ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত। এ সময় জাহাঙ্গীর আলমের ঘাড়, বুক ও হাতে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তারা তার কাছে থাকা একটি ব্রিফকেস ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

জানা গেছে, ওই ব্রিফকেসের মধ্যে আসল ও নকল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ছিল। সন্ত্রাসীরা তার পকেট থেকে কোনো টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনও নেয়নি।

পুলিশের টহল টিম মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীরকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Post A Comment: