খুলনায় দুই সন্তানের জননীকে বিয়ের পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে স্বামী অস্বীকার করছে। এমনকি পুলিশ দিয়েও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকায় ওয়াহিদা পারভীন দর্জির কাজ করে জীবন ধারণ করছিলেন। এভাবেই দু’টি সন্তান নিয়ে কোনো রকমে জীবন কাটছিল তার।
বিয়ের পর অন্তঃসত্ত্বাকে স্ত্রী মানতে অস্বীকৃতি!

খুলনায় দুই সন্তানের জননীকে বিয়ের পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে স্বামী অস্বীকার করছে। এমনকি পুলিশ দিয়েও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকায় ওয়াহিদা পারভীন দর্জির কাজ করে জীবন ধারণ করছিলেন। এভাবেই দু’টি সন্তান নিয়ে কোনো রকমে জীবন কাটছিল তার।


পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার মৃত শেখ ইদ্রিস আলীর ছেলে দুই কন্যা সন্তানের জনক শেখ সোয়েফ উদ্দিন নিজ স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বলে পারভীনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। স্বামী না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনিও রাজি হন।

গত ২০১৬ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু পারভীন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সোয়েফ গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেন। এতে পারভীন রাজি না হলে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দিতে বলে জানান স্বামী সোয়েফ।

এ ঘটনার জেরে গত ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় সোয়েফ উদ্দিন পারভীনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও ভাইয়ের কাছে গর্ভের সন্তান গ্রহণ করার শর্তে ফের পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

এটা সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়ে দিলে গালিগালাজ শুরু করে দেন সোয়েফ। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরও করেন তিনি। এমনকি পেটে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোরও চেষ্টা করা হয়। পারভীনের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় পারভীন ২৩ এপ্রিল সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ নেয়নি। পরে ২৬ এপ্রিল তিনি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় স্বামী শেখ সোয়েফ উদ্দিন, তার প্রথম স্ত্রী আফরোজা খানম হ্যাপী ও রেজাউল গাজী নামে তিনজনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ গত ৭ মে শেখ সোয়েফকে গ্রেফতার করে। এরপর ২৩ দিন হাজতবাস করে ৩০ মে জামিনে বের হন তিনি।

এদিকে বিয়ে অস্বীকার করে সোয়েফ গত ১৯ এপ্রিল আইনজীবীর মাধ্যমে স্ত্রী পারভীনকে লিগ্যাল নোটিশ দেন। নোটিশে স্ত্রীর কাছে একটি সমিতি থেকে লোন পাওয়ার জন্য রাখা দু’টি স্ট্যাম্প, চেকের একটি কপি, তিন কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ফেরত চাওয়া হয়।

লিগ্যাল নোটিশের কপি পৌঁছে দিতে গিয়ে সোনাডাঙ্গা থানার এসআই (বানিয়াখামার ফাঁড়ির ইনচার্জ) শহিদুল ইসলাম পারভীনকে ‘তার সঙ্গে সোয়েফের সম্পর্ক কটূক্তি এবং তার গর্ভের সন্তান বৈধ নয়’ বলে অপবাদ দেন।

এমনকি ‘তার পক্ষে কেউ নেই, তিনি মামলা জিততে পারবেন না এবং তাকে জেলে পাঠাবেন’ বলেও এসআই শহিদুল হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন পারভীন।

তিনি বলেন, তার স্বামীর কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে এসআই শহিদুল ইসলাম তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

তবে হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘হুমকি নয়, মামলা মিটিয়ে ফেলতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অস্বীকার করা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এর মাধ্যমে ওই গৃহবধূ, তার দুই সন্তান এবং গর্ভের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আইনি লড়াইয়ে বাদী ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

Post A Comment: