শ্বশুর বাড়িতে আল আমিন হাওলাদার (২৬) নামের এক যুবকের খুনের ঘটনার মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে চার আসামি হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
 


শ্বশুর বাড়িতে আল আমিন হাওলাদার (২৬) নামের এক যুবকের খুনের ঘটনার মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে চার আসামি হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।


আসামিরা হলেন, নিহত আল-আমিনের শাশুড়ি কহিনুর বেগম, চাচা শ্বশুর বজলু পেয়াদা, চাচি শ্বাশুড়ি হাওয়া বিবি, মামা শ্বশুর ফেরদৌস মিয়া। এদিকে ঘটনার পরই মামলা মূল আসামি ফুল মিয়া সৌদি আরবে চলে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া নিহত আল আমিনের স্ত্রী পলি আক্তার ও ডলি আক্তারকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেয় থানা পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদেরকেও বৃহস্পতিবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সবুজ নগর এলাকার আবু হানিফ হাওলাদারের ছেলে আল আমীনের সাথে প্রায় সাড়ে তিন বছর পূর্বে ঘোষের টিকিকাটা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফুল মিয়ার মেয়ে পলি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুর ফুল মিয়া জামাই আল আমীনকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তিন লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করে। কিন্তু বিদেশে না পাঠানোয় আল আমিনের সাথে শ্বশুরের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ চলাকালে স্ত্রী পলি আক্তারকে সবুজ নগরে শ্বশুর বাড়ি তুলে নেয়া হলেও কিছুদিন পর স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে আসলে আল আমিনের সাথে পলির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। কয়েক মাস পর পুনরায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি হলে আল আমিন ঘোষের টিকিকাটা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকতে শুরু করে। এর মধ্যে প্রবাসী শ্বশুর বাড়িতে এলে ওই পাওনা টাকা নিয়ে শ্বশুর-জামাই পুনরায় বাক-বিতণ্ডা হয়।

এঘটনার জের ধরে গত ৬ এপ্রিল ২০১৭ গভীর রাতে শ্বশুর বাড়িতে শ্বশুর, স্ত্রী, শাশুড়িসহ অন্যান্য আসামিদের মারধরে আল-আমিন মারা যায়। পরে শ্বাশুড়ি কহিনুর বেগম আল আমীনের মুখে বিষ ঢেলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। ওই রাতেই আল আমিনকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ এপ্রিল ২০১৭ সকালে আল আমিন বিষপানে মারা যায় বলে প্রচার চালিয়ে হাসপাতালে লাশ ফেলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা প্রমাণিত হওয়ায় নিহতের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে গত ১ জুন ছেলেকে হত্যার অভিযোগে ৭ জনকে আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Post A Comment: