টানা বর্ষণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৩২
 

টানা বর্ষণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।


এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং অনেকেই মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন। নিহত আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রাঙামাটি শহরে ১৩ জন, কাউখালি থানায় ১২, কাপ্তাইয়ে ৩ ও মানিকছড়িতে দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য রয়েছেন।

উদ্ধার তৎপরতার সময় পাহাড় ধসে মানিকছড়িতে নিহতরা সেনা সদস্যরা হলেন, মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর, কর্পোরাল আজিজ ও সৈনিক শাহিন। এ সময় আরো ১২ সেনা সদস্য আহত এবং আজিজ নামের আরেক সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল রাশিদুল হাসান সেনা কর্মকর্তাদের হতাহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটির শহরে নিহতরা হলেন, ভেদভেদি এলাকার রুমা আক্তার, নুরি আক্তার, জোহরা বেগম, সোনালি চাকমা, অমিত চাকমা, আয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস, মাহিমা আক্তার, মোহাম্মদ বাবু, অনুচিং মারমা, নিকি মারমা ও আবুল হোসেন। এদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

লাশগুলো রাঙামাটি সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মংখ্য সিং চৌধুরী মারমা জানিয়েছেন।

কাপ্তাই উপজেলার কারিগরপাড়া এলাকায় নিহতরা হলেন, অনুচিং মারমা, নিকি মারমা ও ইকবাল হোসেন। কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে পাহাড় ধসে কাউখালি থানা এলাকার কাশখালিতে একই পরিবারের তিনজন, ঘিলাছড়িতে স্বামী-স্ত্রী, বেতবুনিয়ায় চারজন, সুগারমিল আদর্শগ্রামে একজন, ঘাগড়ায় দু’জনসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কাউখালি থানার ওসি আব্দুল করিম।

তবে তিনি নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।

জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে অসংখ্য মানুষ মাটিচাপা পড়ে রয়েছেন। সেকানে ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সোমবার রাত থেকে রাঙামাটি শহরের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে মাটিতে ফাটলও শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরের পর বৃষ্টি ছাড়ালে অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে নৌ যান বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

Post A Comment: