ভাড়াতে মোটরসাইকেল চালক ছাদেকুল ইসলাম হত্যার অন্যতম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 


ভাড়াতে মোটরসাইকেল চালক ছাদেকুল ইসলাম হত্যার অন্যতম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


এরা হলেন- চিরঞ্জিত চাকমা ওরফে ঠিক বাবু এবং কৃষ্ণ বিকাশ চাকমা ওরফে চোখ্খে।

সোমবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের খামারপাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এদের দুজনের বাড়ি নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে কৃষ্ণা মা ছড়া গ্রামে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার সোমবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতার কারণে এ দুজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এদের ধরতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। অবশেষে তাদের ধরা সম্ভব হয়েছে। আটক দুজনই হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

ছাদেকুলের  মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি যেকোন সময় উদ্ধার করা হবে।

এসপি বলেন, ১০ এপ্রিল ৬০ টাকার ভাড়ার কারণে মোটরসাইকেল চালক ছাদেকুলের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কৃষ্ণ বিকাশ চাকমা ছাদেকুলকে জোরে ধাক্কা দিলে ছাদেকুল রাস্তার পাশে ড্রেনের ওয়ালে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ছাদেকুল হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন হবে।

আসামিদের গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানায় আনার পর অকপটে পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন আটক দুই আসামী।

এসময় কৃষ্ণ বিকাশ বলেন, ‘ছাদেককে হত্যার কোন উদ্দেশ্য ছিল না। তাকে ৭০ টাকা পরে দেব বলে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু সে কোনভাবে মানতে রাজি ছিল না। ভয় দেখিয়েছি, তবু শান্ত হয়নি। এসময় তিনি মোটরসাইকেলের বসে এক পা মাটিতে আরো এক পা গাড়ির স্ট্যান্ডে রেখে ৭০ টাকার জন্য ঝগড়া করছিল। কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি ধাক্কা দিলে ছাদেকুল রাস্তার পাশে পাকা ড্রেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পায়। সে আহত হলে তার মাথায় পানি ঢেলে বাঁচানোর জন্য পানি খুঁজেছি। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় পানি পাওয়া যায়নি। পরে আমাদের সামনে তার মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ উল্লাহ বলেন, আটক দুজন ঘটনা ঘটানোর পর মানসিক শান্তিতে ছিলেন না। তারা কোন জায়গায় মনস্থির করতে পারতেন না। মানসিক শান্তি পাবার জন্য তারা বান্দরবানে মন্দিরে গিয়েছিল।

এই ঘটনায় ছাদিকুল ইসলামকে  হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ঘটনার পর থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদসহ সহযোগী সংগঠনগুলো।

প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলা থেকে ভাড়াতে মোটরসাইকেল চালক ছাদিকুল ইসলামকে ভাড়ায় রাঙামাটির নানিয়াচরে ঘিলাছড়িতে আনা হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে নিখোঁজের  তিনদিন পর চালক ছাদিকুল ইসলামের লাশ ঘিলাছড়িতে রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নানিয়াচরথানায় একটি মামলা করেন ছাদিকুলের বড় ভাই।

Post A Comment: