যথাযথ যোগ্যতা না থাকা সত্বেও বিধি বর্হিভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া বাউফল ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজিরুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি এবং মাদ্রাসা বোর্ডের বিধান না মেনে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানাবিধি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নানা অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালের দাখিল ও ২০১৭ সালের আলিম পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অপসারিত ওই অধ্যক্ষের কারণে ভেঙে পড়েছে মাদ্রাসাটির পাঠদান ব্যবস্থা। অধ্যক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণে মাদ্রাসাটির শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাদ্রাসাটির সুনাম ক্ষুণ্নের করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা ওই অধ্যক্ষ।
মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
  

 যথাযথ যোগ্যতা না থাকা সত্বেও বিধি বর্হিভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া বাউফল ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজিরুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি এবং মাদ্রাসা বোর্ডের বিধান না মেনে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানাবিধি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নানা অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালের দাখিল ও ২০১৭ সালের আলিম পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অপসারিত ওই অধ্যক্ষের কারণে ভেঙে পড়েছে মাদ্রাসাটির পাঠদান ব্যবস্থা। অধ্যক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণে মাদ্রাসাটির শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাদ্রাসাটির সুনাম ক্ষুণ্নের করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা ওই অধ্যক্ষ।


সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. মো: ইসাহাক ও পৌর আমির হাফেজ আ: রশিদের ঘনিষ্ট সহোচর হিসেবে পরিচিত মাওলানা মো. নজিরুল হক ১৯৯৩ সালের ১ নভেম্বর বাউফল ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করে পরে সহকারি অধ্যপাক হন। ওই সময়ের অধ্যক্ষ মাওলানা আ. গনি অবসরে গেলে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধি লঙ্ঘণ করে উপাধ্যক্ষকে বাদ দিয়ে মাওলানা নজিরুল হক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন এবং ২০১১ সালের ২৮ জুন ইন্টারভিউ বোর্ডে যোগ্যতাবিহীন দুইজন প্রার্থীকে হাজির করিয়ে নিজে অধ্যক্ষ পদটি দখল করে নেন।

সূত্র জানায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার অধিভূক্তি সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স ”গ” ধারার অধিভূক্ত মাদ্রাসাসমুহের শিক্ষক-কর্মচারীর চাকুরীর শর্তাবলীর ২(খ) উপধারা মোতাবেক ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে ফাজিল অথবা কামিল মাদ্রাসায় কমপক্ষে ১২ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অনুরুপভাবে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত প্রজ্ঞাপণ অনুযায়ি ১৫ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ওই বিধি মোতাবেক দাখিল মাদ্রাসার সুপার কিংবা আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে আবেদনই করতে পারেননা। কিন্তু ওই বিধিবিধান অগ্রাহ্য করে মাওলানা মো. নজিরুল হক গলাচিপা উপজেলার মধ্য পানপট্টি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. আবুল কালাম মো: ইলিয়াছ এবং বাউফলের পশ্চিম নওমালা আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক মাও. আ. রবকে ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রার্থী দেখিয়ে নিজে অধ্যক্ষ পদটি দখল করে নেন।

মাদ্রাসটির তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে বিপুল পরিমান আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এর প্রতিবাদে ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি বজলাল হোসেন খান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্তের জন্য পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। তিনি যথাযথ তদন্ত করে রির্পোট দিলেও অদৃশ্য কারণে সে রিপোর্ট অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যরা জানান।

অপরদিকে ২০০৬ সালের ১৮ জুলাই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. আহসান উদ্দিনকে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বরখাস্ত করে তার স্থলে বিপুল অংকের অর্থিক সুবিধা নিয়ে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর এক মহিলাকে নিয়োগ দেন। এনিয়ে মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে অধ্যক্ষের ব্যাপক বাকবিতন্ডা হয়। এছাড়া মাদ্রাসাটির দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের থেকে বিধিবর্হিভূতভাবে প্রবেশপত্র, কেন্দ্র ফি’র নামে আদায় করা বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরফলে বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে পাঠদান ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

এবিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি এ্যাডভোকেট মফিজুর রহমানের মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

এসমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজিরুল হক বলেন, আমার নিয়োগ বৈধ। আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগই মিথ্যা এবং সবটাই ষড়যন্ত্র। এরপরেও বিস্তারিত জানতে মাদ্রাসায় আসুন।

Post A Comment: