দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল শ্যামনগরজুড়ে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট। সিডর আর আইলা’র প্রভাবে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে এসব এলাকায় খাবার পানির সঙ্কট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুরের পানি পান করছেন। আবার অনেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কালিঞ্চি, মথুরাপুর ও কুপোট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সাতক্ষীরায় উপকূলজুড়ে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট 


 দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল শ্যামনগরজুড়ে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট। সিডর আর আইলা’র প্রভাবে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে এসব এলাকায় খাবার পানির সঙ্কট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুরের পানি পান করছেন। আবার অনেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কালিঞ্চি, মথুরাপুর ও কুপোট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


শ্যামনগরের বয়ারসিং গ্রামের মহব্বত আলী জানান, এলাকায় নলকূপের পানিতেও লবণ। যে কারণে পুকুরের পানি ফিল্টারিং করে খেতে হয়। তিনি আরও জানান, তার ৯ সদস্যের পরিবারের জন্য প্রতিদিন তাদের তিন কলস করে পানি সংগ্রহ করতে হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক আগে থেকে এসব এলাকায় খাবার উপযোগী পানির সঙ্কট চলছিল। তবে আইলা’র কারণে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সে সঙ্কট তীব্রতর হয়েছে। এছাড়া এবারের বর্ষা মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে এসব এলাকার মানুষ যথেষ্ট পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করতে না পারায় গ্রীষ্মের শুরু থেকে খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ফুলবাড়ি গ্রামের জাহানারা বেগম বলেন, পাঁচজনের সংসারে প্রতিদিন দুই কলস খাবার পানির দরকার। বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে সফিকুল ইসলামের বাড়ির পুকুর থেকে পানি এনে খেতে হয়।

তবে সে পানি লবণাক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইলা’র পর দু’বার পুকুরটি খনন করার পরও লবণ কাটেনি। তাই বাধ্য হয়ে ওই লবণাক্ত পানি পান করতে হয়।

কদমতলা গ্রামের কলেজছাত্র মুশফিকুর রহমান জানান, তাদের এলাকায় গভীর বা অগভীর নলকূপের পানি লবণাক্ত। যে কারণে গোটা এলাকার মানুষ বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পান করেন। পরবর্তী সময়ে বর্ষাকালের সংরক্ষিত পানির পাশাপাশি পুকুরে স্থাপন করা পিএসএফ এর পানি পান করেন। তবে এবছর বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে এখনও পুকুরের পানি খাবারের জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। বাবা-মা অসুস্থ ও বোন শ্বশুর বাড়িতে থাকার কারণে পরিবারের জন্য প্রতিদিন তাকে তিন কিলোমিটার দূরে হরিনগর বাজার সংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকা থেকে দুপুর ও সন্ধ্যায় দু’বার পানি আনতে হয়।

‘পরিবারের সদস্যদের খাবার উপযোগী পানি আনতে গিয়ে মেয়ের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে দূর-দূরন্ত থেকে সকাল-বিকেল পানি আনতে হয়,’ বললেন কুপোট গ্রামের অনুরাধা মন্ডল।

শ্যামনগর উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলায় ১৪১৮টি গভীর, ৩২২টি অগভীর নলকূপ চালু রয়েছে। এছাড়া এসএসটি ৩৯৭ এবং প্রায় চারশত পিএসএফ সচল রয়েছে। তবে বৃষ্টি কম হওয়ায় এবছর আরএসএফ ও পিএসএফ’গুলো মানুষের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, এবছর নতুন করে শতাধিক গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপনসহ ১৩০টি আরএসটি এবং ১০টি এসএসটি স্থাপন করা হয়েছে।

Post A Comment: