ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার লুচিয়া গ্রাম থেকে মো. আফতাব নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ‘গায়েব’ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন অভিযোগ নিখোঁজ আফতাবের স্ত্রী রুবিনা খাতুনের।

 ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার লুচিয়া গ্রাম থেকে মো. আফতাব নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ‘গায়েব’ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন অভিযোগ নিখোঁজ আফতাবের স্ত্রী রুবিনা খাতুনের।


নিখোঁজ আফতাবের রাহুল (১০) ও সোনিয়া (২৩) নামে দুটি সন্তান আছে।

রুবিনা খাতুন জানান, এএসআই তারিকুল ইসলামসহ দুইজন পুলিশ বাড়িতে এসে তার স্বামীর নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে থানায় নিয়ে যায়।

‘ওই সময় এএসআই তারিকুলের পোশাকে কোনো নেমপ্লেট ছিল না। আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আরো গ্রামের আরো চার-পাঁচজন ছিল। তারা এ ঘটনার স্বাক্ষী। আমার প্রতিবেশীদের সামনেই তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এএসআই তারিকুলের সঙ্গে লিটন নামে আরেকজন দারোগাও ছিল।’

ওইদিন সাড়ে ৬টার দিকে থানা হাজতে আমার স্বামীকে দেখতে পাই। স্বামীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি তাকে এএসআই তারিকুল নিয়ে এসেছে। এছাড়া থানায় দারোগা লিটনকে দেখে চিনতে পারি।

‘পরে লিটনের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে লিটন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ বলেন রুবিনা।

রুবিনা বলেন, সাড়ে ৬টার দিকে থানায় যাই। এরপর সাড়ে ৮টার দিকে রাতের খাবার দিতে গিয়ে দেখি আমার স্বামী নেই। ওখানে তুলি নামে এক নারী পুলিশ ছিল; তুলি জানান, এএসআই তারিকুল ওই আসামিকে ধরে নিয়ে এসেছিল। তাকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে।

পরে স্বামীকে ছাড়াতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। রঞ্জুর ভাইও পুলিশে চাকরি করে। পরে রঞ্জু থানায় যোগাযোগ করে আমাকে জানায়, তার স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে হলে ৫ লাখ টাকা ঘুষ লাগবে।

‘আমার স্বামীকে মেরে ফেলে দিলেও টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই।’ পরে আর রঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

স্বামীর নামে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রুবিনা বলেন, পাশের গ্রামে খুন হয়েছিল। আমার স্বামীকে খুনের আসামি করা হয়েছে। একটা মামলা ভেঙে তিনটা করা হয়েছে। দুই মামলায় স্বামী জামিন পেয়েছেন। আরেকটি মামলা আছে। সেই মামলার কথা বলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

রুবিনা খাতুন জানান, তাদের কথা মতো ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে খোঁজ নিলে আফতাব নামে কাউকে তারা আটক করেনি বলে জানায়। গত ৩দিন ধরে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার স্বামীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ আফতাবের ভাইপো শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার চাচা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেছে, ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার অনেকেই দেখেছে।

কালীগঞ্জ থানার এএসআই তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এলাকায় নতুন এসেছি। পথঘাটও চিনি না।’

আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে রুবিনার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে এএসআই বলেন, ‘না আফতাবের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আফতাব নামে কাউকে আটক করা হয়নি। আমার জানামতে এরকম কোনো আসামিকে থানায়ও আনা হয়নি।’

পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা না বুঝেশুনে এই অভিযোগ করছে।’

তুলি নামে এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছিলেন যে আফতাবকে এএসআই তারিকুল ধরে নিয়ে এসেছে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তুলি তো এখান থেকে বদলি হয়ে গেছে।’

Post A Comment: