রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বেনীপুর আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণকারী নব্য জেএমবির নারী সদস্য সুমাইয়ার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


    রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বেনীপুর আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণকারী নব্য জেএমবির নারী সদস্য সুমাইয়ার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নিহত নব্য জেএমবির নেতা সাজ্জাদ আলীর মেয়ে সুমাইয়াকে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩ এ হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক সাইফুল ইসলাম সুমাইয়াকে জিজ্ঞাবাসাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোদাগাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আলতাফ হোসেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বেনীপুরের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় গোদাগাড়ী থানার এসআই নাঈমুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয় সুমাইয়াকে। মামলায় ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান আব্দুল মতিনকে হত্যা, পুলিশ সদস্যদের হত্যার চেষ্টা, অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য ও জিহাদি বই রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের আবেদন করা হয়। আদালত থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাকে গোদাগাড়ী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে হাজির করার সময় সুমাইয়ার তিন মাসের শিশুকন্যা তার সঙ্গে ছিল। তবে তার আট বছর বয়সের ছেলে জুবায়েরকে শনিবার বিকেলে তার চাচা মিনারুল ইসলামের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত থেকে বেনীপুর গ্রামে সাজ্জাদ আলীর বাড়ির পাশে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সাজ্জাদ আলীর পরিবারের সদস্যদের হামলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মী আবদুল মতিন নিহত হন। আহত হন আরো দুই পুলিশ সদস্য। এরপর সাজ্জাদ আলী (৫০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন ওরফে হামজা (২০), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) এবং বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম (২৩) অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনার ঘন্টা খানেক পরে দুই শিশুসহ সুমাইয়া আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের কাছে।

Post A Comment: