ঘূর্ণিঝড় মোরা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমদ্র উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত কমিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। মঙ্গলবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মহাবিপদ সংকেত কমিয়ে উপকূলে ৩ নম্বর সংকেত

    ঘূর্ণিঝড় মোরা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমদ্র উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত কমিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। মঙ্গলবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার ও খেপুপাড়া রাডার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উপকূল অতিক্রমরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি বর্তমানে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে রাঙামাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। স্থল গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝড়িয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দর এলাকাসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে পরবর্তীতে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড় মোরা। তবে মহাবিপদ সংকেত আরো কয়েক ঘণ্টা থাকবে।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড় মোরা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল অতিক্রম করা শুরু করেছিল। এটা অতিক্রম করেছে। এবং ধীরে ধীরে এর শক্তি কমছে (দুর্বল হয়েছে পড়ছে)।

তিনি আরো জানান, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় আরো চার পাঁচ ঘণ্টা আমরা হয়তো মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলব। তারপর স্থানীয় বিপদ সংকেত দেখাতে বলব।

ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস নিয়ে মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করে ঘূর্ণিঝড়টি।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এটি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। এটি আরো উত্তরে ভারতের মনিপুরের দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে স্থলনিম্নচাপে পরিণত হবে। মোরার প্রভাবে ঝড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজার উপকূলের শত শত ঘরবাড়ি ধসে গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এবং গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের ফলে প্লাবিত হয়েছে বহু এলাকা।

Post A Comment: