২০১৩ সালে পুলিশের হাতে যখন ধরা পড়লেন, তখন কেটে গেছে ২৭টা বছর। ক্রিস্টোফার নাইট মার্কিন যুক্তরাষ্টের মেইনের বাসিন্দা। পরে কাজের সূত্রে আসেন বোস্টনে। সেখানে বাড়ি আর গাড়িতে অ্যালার্ম বসানোর কাজ করতেন তিনি।
২৭ বছর জঙ্গলে বাস! 


২০১৩ সালে পুলিশের হাতে যখন ধরা পড়লেন, তখন কেটে গেছে ২৭টা বছর। ক্রিস্টোফার নাইট মার্কিন যুক্তরাষ্টের মেইনের বাসিন্দা। পরে কাজের সূত্রে আসেন বোস্টনে। সেখানে বাড়ি আর গাড়িতে অ্যালার্ম বসানোর কাজ করতেন তিনি।


১৯৮৩ সালে তিনি ২০ বছরের যুবক। হটাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। আবাস গড়লেন জঙ্গলে। প্রায় তিন দশক তিনি কথা বলেননি কোন মানুষের সাথে। জীবন ধারণ করেছেন এটা সেটা চুরি করে। এই কাজ করেই পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এই বিস্তর সময়ে মাইনাস ২০ ডিগ্রি বরফ জমা তাপমাত্রায় বই পড়ে কাটিয়েছেন তিনি।

ক্রিস্টোফার নাইট বলেন, 'এটা কোন আর্ট নয়, কিংবা আধুনিক পৃথিবী থেকে পালানোর কোন প্রচেষ্টাও নয়।' হটাৎ করেই এমনটা করে বসেন তিনি- এমনটাই দাবি তার। 'আমি আমার কাজকে ব্যাখ্যা করতে পারব না। আমার কোন পরিকল্পনা ছিল না, আমি কোনকিছু নিয়ে ভাবছিলামও না, কিন্তু আমি এটা করেছি'- বলেন ক্রিস্টোফার।

তার বেচে থাকার গল্পটাও দারুণ। জঙ্গলের ভিতরে আবাস গড়েন তাবু গেড়ে। এরপর বেঁচে থাকার জন্য চাই খাবার। আর সে কাজটা করেছেন বেশ সতর্কতার সাথে। একিদন নিশানায় এল তার আবাসের পাশে জলাশয়-লাগোয়া বাড়িগুলো।

শুরু হল নিখুঁত পরিকল্পনা, আর চুরির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা!

প্রতি বাড়িতেই একাধিক বার তিনি ঢুকেছেন। লেকের ধারে সময় কাটাতে আসা মানুষের ডিঙি নৌকা কিছু ক্ষণের জন্য সরিয়ে তাকেই কাজে লাগিয়েছেন চোরাই জিনিস তাঁবুতে আনার জন্য।

লাগাতার চুরি হয়েছে, চোর ধরতে নানা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব এড়িয়ে তিনি তালা ভেঙে বাড়ির ভেতর ঢুকতেন। ২৭ বছরে তার চুরির সংখ্যা হাজারেরও বেশি।

Post A Comment: