জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ায় এ রায়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেনে সাঈদীপুত্র ও ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।

ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি:মাসুদ সাঈদী

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ায় এ রায়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেনে সাঈদীপুত্র ও ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।


রবিবার ও সোমবার দুই কার্যদিবস দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনের উপর শুনানি শেষে সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে সাঈদীর খালাস চেয়ে রিভিউ এবং রাষ্ট্রপক্ষের ফাঁসি চেয়ে করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর মাসুদ সাঈদী  এ প্রতিক্রিয়া জানান।

মাসুদ সাঈদী  বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমাদের পরিবার ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। ন্যায় বিচার পেলে আমার আব্বার এক দিনেরও সাজা হতো না, খালাসই ছিল- আমার বাবার জন্য ন্যায়বিচার।’

তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিল। এ নিয়ে আমরা রিভিউ করেছিলাম ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায়।

তিনি বলেন, ‘তিনটি অভিযোগের মধ্যে- ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালি নামে দুইজনকে হত্যা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায়। সেইসব দলিল-দস্তাবেজ (প্রমাণপত্র) আদালতে দাখিল করলেও আমাদের সেই প্রমাণপত্র আদালত আমলে না নিয়ে রায় বহাল রাখেন।’

মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আপনারা জানেন- বিসাবালি হত্যার বিষয়ে তার ভাই সুখরঞ্জন বালি এ হত্যায় সাঈদী সাহেব জড়িত নন বলে আদালতে বলেছেন। এছাড়াও তার সাক্ষাৎকার, বক্তব্য  বিভিন্ন সংবাদমধ্যমে (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছিল। পরে বিসাবালি হত্যার সাক্ষী তার ভাই সুখরঞ্জন বালিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কে বা কারা উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে তার সন্ধান মেলে ভারতের জেলখানায়।’

ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তার (ইব্রাহিম) স্ত্রী মমতাজ বেগম এখনো জীবিত। ১৯৭২ সালে স্বামী হত্যায় তিনি মামলা করেছিলেন। রেকসোনা নামে তার কন্যা রয়েছেন। এ মামলায় যাদের সাক্ষী রাখা হয়েছে ইব্রাহিম কুট্টির বাড়ি থেকে তাদের বাড়ি ৫ কিলোমিটার দূরে।’

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম- সর্বোচ্চ শাস্তির। সেই রায় ও আমাদের আশা পূরণ হয়নি। আদালত যে রায় দিয়েছে, এর উপরে তো আমাদের হাত নাই। তবে ফাঁসির রায় হলে দলের পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ করতাম।’

সাঈদীর মামলার বাদী ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহাবুব আলম  বলেন, ‘বলে আর কি হবে, অনেকই তো বললাম। এ নিয়ে তো কম হলো না। এ রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা আশা করেছিলাম ও চেষ্টা করেছিলাম ফাঁসির।’

ইন্দুরকানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ  বলেন, ‘আমরা ও আমাদের এলাকার মানুষ নির্দোষ সাঈদী খালাস পাবেন বলে আশা করেছিলাম। তিনি রাজনীতিতে এসে সরকারের রেশানলে পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি স্বাধীনতার সময় বড়ই ছিলাম- শিশু বা ছোট ছিলাম না। সেই সময় আমি দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সাথে তিনি জড়িত নয়। যাইহোক, আমাদের আশা পূরণ হয়নি।’

Post A Comment: