সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মনিরুজ্জামান ও নার্স জোবেদাকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী লাকী খাতুন। চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখানো, খারাপ ব্যবহার, বকাঝকা করা এবং দীর্ঘসময় ডিউটি করানোর ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ হত্যার পরিকল্পনা দেয় তার পরকীয়া প্রেমিক তোমছের আলী আর উচ্চমাত্রার বিষ দেয় কবিরাজ আশরাফ আলী।
ডাক্তার-নার্স হত্যা : পরিকল্পনা প্রেমিকের, বিষ কবিরাজের

    সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মনিরুজ্জামান ও নার্স জোবেদাকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী লাকী খাতুন। চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখানো, খারাপ ব্যবহার, বকাঝকা করা এবং দীর্ঘসময় ডিউটি করানোর ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ হত্যার পরিকল্পনা দেয় তার পরকীয়া প্রেমিক তোমছের আলী আর উচ্চমাত্রার বিষ দেয় কবিরাজ আশরাফ আলী।


মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ এ সব কথা বলেন। 
 


সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরো বলেন, খাবারের সাথে উচ্চ মাত্রার বিষ প্রয়োগ করা হয়। খাবার পরিবেশনকারী লাকী খাতুন রিমান্ডে এ কথা স্বীকার করেছেন। গত ৬ মে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলামের আদালতে লাকী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন।


গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী এসএম আলমগীরের (৪৭) বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক  ডাঃ মনিরুজ্জামান, সিনিয়র স্টাফ নার্স জোবেদা খাতুন ও আলমগীর হোসেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে নার্স জোবেদা খাতুন ও পরে মনিরুজ্জামনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় কাজিপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপর দেয়া হয়। পরে ডিবি পুলিশ ৩ মে সন্ধ্যায় কাজীপুর উপজেলার বেড়ীপোটল গ্রামের জহরুল ইসলামের স্ত্রী লাকি খাতুনকে আটকের পর ৩দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।


জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরো জানান, ডাঃ মনিরুজ্জামান তার সাথে খারাপ ব্যবহার করতো। চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখাতো। বিষয়টি তিনি তার প্রেমিক তোমছের আলীকে জানান। এর আগে, তোমছেরের স্ত্রীকে হাসপাতালে আয়া পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে ডাঃ মনিরুজ্জামান তাকে চাকরি দেয়নি। এতেও ক্ষুব্ধ ছিলেন তোমছের আলী। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তোমছের আলী ও লাকী খাতুন ডাঃ মনিরুজ্জামানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের হত্যার জন্য স্থানীয় আশরাফ আলী ওরফে আছাব আলী কবিরাজের কাছ থেকে বিষ আনে।

গত ২৫ এপ্রিল লাকী খাতুন ও পিয়ন চাঁন মিয়া অফিস সহকারী আলমগীরের বাড়ি থেকে খাবার আনেন। পরে ডাঃ মনিরুজ্জামানের পাশের কক্ষে খাবার রেখে তাতে বিষ মেশায় লাকী। এরপর মনিরুজ্জামান, জোবেদা খাতুন ও আলমগীরকে বিষ মেশানো খাবার খেতে দেন। এই খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে ডাঃ মনিরুজ্জামান, নার্স জোবেদা খাতুনের মৃত্যু হয়। আলমগীর হোসেন এখনও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ পরিচ্ছন্নতাকর্মী লাকী খাতুন, তার প্রেমিক তোমছের আলী ও কবিরাজ আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Post A Comment: