একজন সাধারণ পরিবারের ছেলে আব্দুল হালিম। নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য একাধিকবার বদল করেছেন বাবার নাম, অনিয়ম ধরা পড়ায় খেয়েছেন গণপিটুনি। বিয়ে করেছেন তিনটি। রাজনৈতিক দলে কোনো পদ না থাকার পরও নিজেই স্বঘোষিত নেতা হয়েছেন। সর্বশেষ বনানীর হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আত্মগোপনে রয়েছেন এই প্রতারক।
‘ধর্ষক’ নাঈম আশরাফের যত অপকর্ম
    


একজন সাধারণ পরিবারের ছেলে আব্দুল হালিম। নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য একাধিকবার বদল করেছেন বাবার নাম, অনিয়ম ধরা পড়ায় খেয়েছেন গণপিটুনি। বিয়ে করেছেন তিনটি। রাজনৈতিক দলে কোনো পদ না থাকার পরও নিজেই স্বঘোষিত নেতা হয়েছেন। সর্বশেষ বনানীর হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আত্মগোপনে রয়েছেন এই প্রতারক।


দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সিরাজগঞ্জের এস. এম. আব্দুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ তার অপকর্মগুলো ঢাকতেই কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গান্ধাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের ছেলের নাম ব্যবহার করতেন।

স্থানীয়রা জানায়, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা গান্ধাইল গ্রামের আমজাদ হোসেন ফেরিওয়ালার ছেলে এইচ.এম হালিম। ২০০৪ সালে এসএসসি পাশ করে বগুড়া পলিটেকনিকে ভর্তি হয়। সেখানেও নিজের বাবার নামসহ পুরো পরিচয় গোপন করে প্রতারণা করে এক মেয়ের সাথে। ধরা পড়ে গণপিটুনি খেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে নাম বদলে হয়ে যায় নাঈম আশরাফ। চাকরি নেয় এক মিডিয়া হাউজে। এরপর থেকেই দীর্ঘদিন তার কোনো খবর ছিল না তার এলাকায়। হঠাৎ করেই নিজেকে কাজিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার ফেস্টুন লাগায়। আর এতেই আবার নজরে আসে হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ।

এদিকে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান পরিচয় নিয়ে নাঈম আশরাফ ঢাকার বিভিন্ন নারীদের সাথে প্রতারণা করে গড়ে তুলতেন শারীরিক সম্পর্ক। তবে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় গান্ধাইল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আব্দুল হালিম প্রভাব বিস্তার ও প্রতারণা কাজটি সহজ করার জন্য কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলমের সন্তানের নাম ব্যবহার করেছেন।

সর্বশেষ ঢাকায় প্রতারক নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে ঢাকায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হলে সে আত্মগোপনে চলে যান। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নাঈম আশরাফের গ্রামের বাড়ী কাজিপুরের গান্ধাইলসহ তার বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে পারেননি পুলিশ।

কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমিত কুমার কুন্ডু জানান, সাধারণ ফেরিওয়ালার ছেলে এইচ.এম হালিম নাম বদলে হয়েছেন নাঈম আশরাফ। প্রকৃতপক্ষে এলাকায় সে একজন প্রতারক হিসেবে পরিচিত। বাবার নাম পরিচয় বদলে বিয়ে করেছেন তিনটি। দুজন স্ত্রী তার প্রকৃত পরিচয় জেনে সরে গেলেও এখন তৃতীয় স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন ঢাকায়। আর কাজিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে কোনো পদ না পেয়েও ব্যানার ফেস্টুনে ব্যবহার করছেন দলীয় নেতাদের ছবি ও পদবী। তাকে গ্রেফারের অভিযান চলছে বলে জানান ওসি।

Post A Comment: