যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বিস্ফোরণের ঘটনার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। তবে ব্রিটিশ সরকার এই বিস্ফোরণকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর আগেও নানা সময়ে হামলার শিকার হয়েছে দেশটি। গতকাল সোমবার ম্যানচেস্টারে বিস্ফোরণের আগে গত মার্চেই হামলার শিকার হয় লন্ডন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বড় হামলাটি হয় ২০০৫ সালে। ওই হামলায় ৫২ জন নিহত হয়।

 

 যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বিস্ফোরণের ঘটনার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। তবে ব্রিটিশ সরকার এই বিস্ফোরণকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর আগেও নানা সময়ে হামলার শিকার হয়েছে দেশটি। গতকাল সোমবার ম্যানচেস্টারে বিস্ফোরণের আগে গত মার্চেই হামলার শিকার হয় লন্ডন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বড় হামলাটি হয় ২০০৫ সালে। ওই হামলায় ৫২ জন নিহত হয়।

যুক্তরাজ্যে গত কয়েক বছরের হামলা ও হামলা চেষ্টার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো:

মার্চ ২০১৭: ওয়েস্টমিনস্টারে সেতুতে হামলা
২২ মার্চ লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার সেতুতে পথচারীদের ওপর এক ব্যক্তি গাড়ি তুলে দেয়। পরে ছুরি হাতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় পাঁচজন মারা যায় ও আহত হয় ৫০ জনেরও বেশি। ওই ব্যক্তি দেশটির পার্লামেন্টের সীমানাবেড়াও ভেঙে ফেলে। হামলাকারী ধর্মান্তরিত মুসলিম খালিদ মাহমুদকে (৫২) ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

২০১৬: আইনপ্রণেতা হত্যা
১৬ জুন ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি জো কক্সকে হত্যা করা হয়। ঐতিহাসিক ভোটে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার কয়েক দিন পর নাৎসি বাহিনীর প্রতি সহানুভূতিশীল থমাস মাইর নামের এক ব্যক্তি জো কক্সের ওপর হামলা চালান। পরের বছর ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৫: লন্ডন পাতাল রেলে হামলা
৫ ডিসেম্বর সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এক ব্যক্তি লন্ডনের পাতাল রেলস্টেশনে দুজনকে ছুরিকাঘাত করেন। এর মধ্যে একজন গুরুতর আহত হন। সিরিয়ায় আইএসের ওপর যুক্তরাজ্যের প্রথম বিমান হামলার দুদিন পর এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ব্যক্তি সোমালিয়া বংশোদ্ভূত মুহেদিন মিরেকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।।

২০১৩: ব্রিটিশ সেনা হত্যা
২২ মার্চ নাইজেরিয়া বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিক সেনা ব্যারাকের কাছাকাছি এলাকায় লি রাগবি (২৫) নামের একজন ব্রিটিশ সেনাকে হত্যা করেন। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হামলাকারী মাইকেল আদেবোলাজোকে (২৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মাইকেল আদেবোওয়ালেকে (২২) কমপক্ষে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০০৯: আয়ারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে গুলিবর্ষণ
মার্চে আয়ারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে পুনরায় রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়। পিৎজা নিতে যাওয়া দুজন সেনাসদস্যকে ব্যারাকের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৯৯৭ সালের পর এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল এটাই প্রথম।

২০০৭: ব্যর্থ গাড়িবোমা হামলা
২৯ জুনের ঘটনা। লন্ডনের পিকাডিলি সার্কাসের কাছে একটি নৈশ ক্লাবের বাইরে দুটো মার্সিডিজ গাড়িভর্তি জ্বালানি, টিন ও পেরেক পাওয়া যায়। এর এক দিন পর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিমানবন্দরের প্রধান টার্মিনালের দিকে একটি জ্বলন্ত গাড়ি ঠেলে দেওয়া হয়। গাড়িটির ভারতীয় চালক ভয়াবহ দগ্ধ হন, এক মাস পর মারা যান। গাড়ির যাত্রী ইরাকি চিকিৎসক বিলাল আবদুল্লাহকে (২৯) শত শত মানুষ হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ৩২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০০৫: লন্ডন পরিবহনব্যবস্থায় হামলা
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত চারজন ব্রিটিশ নাগরিক ওই বছরের ৭ জুলাই লন্ডন পরিবহনব্যবস্থায় ব্যস্ত সময়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। ওই সিরিজ হামলায় ৫২ জন নিহত হয়। আহত হয় ৭০০ জন। ওই হামলার দুই সপ্তাহ পর আরেকটি গ্রুপ হামলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

২০০৪: একাধিক হামলার পরিকল্পনা বানচাল
ওই বছরের ৩০ মার্চ সাতজন ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাজ্যে ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। লন্ডনের বড় ডিসকো ক্লাব, বৈদ্যুতিক ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা ছিল।

Post A Comment: