ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা হবে কি না, বা হলেও কী আকারে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলা না হলেও সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে।


ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা হবে কি না, বা হলেও কী আকারে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলা না হলেও সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে।


শেখ হাসিনার সফরের একদিন আগে ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই দুটি এমওইউ বা সমঝোতা-স্মারকের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর করে, ২৫ বছর নয়।
এর একটি দু’দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসবে। আর অন্যটি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা সংক্রান্ত।

তবে তিস্তা নিয়ে এই সফরে চুক্তির সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দিয়ে ভারত এটাও জানিয়েছে যে এই নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে দেশের ভেতরে কোনও ঐকমত্যে এখনও পৌঁছনো যায়নি।
ভারতের বাংলাদেশ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, এই সফরে প্রতিরক্ষা বিষয়ক দুটো এমওইউ(সমঝোতা স্মারক) সই করার পরিকল্পনা আছে।

এর একটা হবে ফ্রেমওয়ার্ক এমওইউ, অর্থাৎ যা দুদেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসবে। তবে এটার মেয়াদ ২৫ বছর নয় - কিন্তু পাঁচ বছর পর পর সাধারণত এই সমঝোতা-স্মারকগুলো আপনি আপনি নবায়ন হয়ে যায়।

এই দুটি প্রতিরক্ষা এমওইউ-তে ঠিক কী থাকবে, তারও একটা ধারণা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

রঙ্গনাথন এই দুটো সমঝোতার বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের যে ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আছে এবং আগামী দিনেও যেটাকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তার একটা ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো থাকবে এই সমঝোতায়। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণা বা রিসার্চ-ডেভেলপমেন্ট, প্রতিরক্ষা রসদ সরবরাহেরও অবকাশ থাকবে সেখানে। আর দ্বিতীয় যে সমঝোতাটা হচ্ছে তার লক্ষ্য হল বাংলাদেশ যাতে তাদের প্রতিরক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু কিছু সরঞ্জাম ভারত থেকে কিনতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা।

প্রতিরক্ষা খাতে এটাকে দু'দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
কিন্তু তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে এই সফরে যে বড় কোনও ব্রেকথ্রু বা চুক্তির কোনও সম্ভাবনা নেই, ভারত সেটাও আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

রঙ্গনাথনের কথায়, তিস্তা নিয়ে এখনও কাজ চলছে। তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে একটা চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য ভারত অনেক আগেই অঙ্গীকার করে রেখেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই সঙ্গে এটাও বলেছেন যে ভারতের ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মত নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। আর ঠিক সেখানেই আমাদের কাজটা অসমাপ্ত আছে।

তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ওপর তার কী প্রভাব পড়বে সেটা নিয়ে ওই রাজ্যে এখনও কিছু প্রশ্ন বা সংশয় আছে। সেটার যতক্ষণ না নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ অবধি তিস্তা আমাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে - আমরা তার মোকাবিলার চেষ্টার করে যাচ্ছি, কিন্তু এখনও সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছতে পারিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শেখ হাসিনার সফরের সময় দিল্লিতে এসে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন, সেটাও  ভারত নিশ্চিত করেছে, তবে তাতে পরিস্থিতির দ্রুত কোনও হেরফের হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে না।

Post A Comment: