কবি নজরুল সরকারি কলেজে ভর্তি রসিদ জালিয়াতি করে চলতি বছর শতাধিক শিক্ষার্থীর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফি কলেজের তহবিলে জমা না হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে টাকা চাইছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতারা এর দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এ জন্য কলেজ প্রশাসনকেই দায়ী করছেন। বিষয়টি তদন্তে কলেজ প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। ঘটনাটি মার্চের শুরুতে। চলতি বছর ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের স্নাতক শ্রেণিতে সর্বনিম্ন তিন হাজার ২০২ টাকা এবং স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন তিন হাজার ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। কিন্তু ১১৬ শিক্ষার্থীর ভর্তির সময় দেওয়া ফি জমা হয়নি কলেজ তহবিলে, এর পরিমাণ কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।



কবি নজরুল সরকারি কলেজে ভর্তি রসিদ জালিয়াতি করে চলতি বছর শতাধিক শিক্ষার্থীর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফি কলেজের তহবিলে জমা না হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে টাকা চাইছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতারা এর দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এ জন্য কলেজ প্রশাসনকেই দায়ী করছেন। বিষয়টি তদন্তে কলেজ প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে।

ঘটনাটি মার্চের শুরুতে। চলতি বছর ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের স্নাতক শ্রেণিতে সর্বনিম্ন তিন হাজার ২০২ টাকা এবং স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন তিন হাজার ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। কিন্তু ১১৬ শিক্ষার্থীর ভর্তির সময় দেওয়া ফি জমা হয়নি কলেজ তহবিলে, এর পরিমাণ কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।

শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে দু'জন নেতা সব সময় ব্যাংকের মধ্যে বসে থাকেন। তাদের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হয়। সব সময়ই নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিতে হয় তাদের। তবে রসিদ জালিয়াতির ঘটনা এবারই প্রথম। কলেজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তার জানামতে, এ বছর ডিগ্রির প্রায় ৭৭ জন ও প্রিলিমিনারি-মাস্টার্সের প্রায় ৩৯ জনের টাকা ছাত্রলীগ নেতারা ব্যাংকে জমা না দিয়েই রসিদ দিয়েছেন।’

তবে এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও তা বেশি নয় বলে দাবি করেন কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুক্তি রানী সাহা। সংখ্যা না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সমস্যা যাদের হয়েছে, তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিন, সমাধান করে দেব।’ তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও তিনি স্বীকার করেন। তবে তদন্ত কমিটির সদস্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বদিউল আলম কিছু বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান মোহন বলেন, ‘এমন হতে পারে, ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।' ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাওলাদার বলেন, 'ভর্তির টাকা জালিয়াতির সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নন। এটা তো প্রশাসনের বিষয়। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এসব প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে কেউ ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের কাজ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো নতুন বিষয় নয়। আগের কমিটির নেতারাও একইভাবে বাণিজ্য করেছেন। এ কলেজে গত বছর এইচএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১৭০ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৫০, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৫০ ও মানবিকে ৩৭০ জন। বোর্ডের মেধা তালিকা অনুযায়ী ২৭ জুন প্রথম দফা ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়। এর পর শুরু হয় মেধা তালিকায় অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম। একই সঙ্গে কলেজ প্রশাসনের সামনেই চলে ছাত্রলীগ নেতাদের ভর্তি বাণিজ্য। 

Post A Comment: