আমাদের দেশের অনেক জায়গার নাম বেশ অদ্ভুত। ভোলার চর কুকরিমুকরি এমনই একটি জায়গা। শুনতেই মনে হয়, একটা জায়গার নাম এমন কুকরিমুকরি কেন? নাম যেমনই হোক না কেন কারণ কিন্তু আছে সব নামের পেছনেই। আসুন জেনে নিই, চর কুকরিমুকরি সম্পর্কে কিছু না জানা কথা!


আমাদের দেশের অনেক জায়গার নাম বেশ অদ্ভুত। ভোলার চর কুকরিমুকরি এমনই একটি জায়গা। শুনতেই মনে হয়, একটা জায়গার নাম এমন কুকরিমুকরি কেন? নাম যেমনই হোক না কেন কারণ কিন্তু আছে সব নামের পেছনেই। আসুন জেনে নিই, চর কুকরিমুকরি সম্পর্কে কিছু না জানা কথা!


আজকের চর কুকরিমু-করির অসাধারণ সৌন্দর্য সব সময়ই এমন ছিল না। বন বিভাগের পরিকল্পনায় এই বন ভূমি গড়ে তোলা হয়েছে, এখানে এখন জীবিত গাছের সংখ্যা ৯ কোটিরও বেশি। সবুজ ছায়ার মায়ায় ঘেরা এই চরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। যার নাম ভাড়ানি খাল। খালের পাড়ে দাঁড়ালে দূরের উত্তাল সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাবেন শুধু।
 
চর কু-করিমুকরির পরেই আছে ঢাল চর। একটা নৌকা নিয়ে চলে যেতে পারবেন এখানে। ঢাল চরের পরই বঙ্গোপসাগর। সাগরের আছড়ে  পড়া ঢেউয়ের শব্দে মনে পড়ে যাবে কক্সবাজার বা কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতের কথা। স্থানীয় মানুষেরা এই জায়গাকে বলে বালুর ধুম।


চর থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তও যথেষ্ট উপভোগ্য। সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে এই সৌন্দর্য দেখার মজাই আলাদা। কিন্তু স্বপ্নের দ্বীপ বলে খ্যাত কুকরি মুকরি মোটেও এত সুন্দর ছিল না। তেমন লোকের বাসও ছিল না এখানে। মাছ ধরার নৌকা যখন এই চরে এসে নোঙ্গর ফেলত তখন চারিদিকে দেখা মিলত কুকুর আর ইঁদুরের। স্থানীদের কাছে ইঁদুরের প্রতিশব্দ ছিল মেকুর। কুকুর আর মেকুর মিলিয়ে দিনে দিনে এর নাম হয়ে গেল কুকরিমুকরি।
 
বনায়ন বদলে দিয়েছে চরের রূপ। কিন্তু নামটা রয়ে গেছে তেমনই। তবে পর্যটন এখনো ছুঁয়ে যায় নি এর মাটি। তাই টিকে আছে আদিমতা, প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য।

Post A Comment: