প্রেমিক বাঙালি যুবকের সঙ্গে পালিয়ে এক ত্রিপুরা নারী শ্রমিকের বিয়ের জের ধরে ফটিকছড়ির দাঁতমারা নাছিহা চা-বাগানের প্রায় ৭৮ জন পাহাড়ি শ্রমিককে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে একটি পাহাড়ি সংগঠন। শব্দ বালা ত্রিপুরা নামের ওই নারীকে ফিরিয়ে না দিলে শ্রমিকদের বাগানে যেতে দেব না তারা।
 


প্রেমিক বাঙালি যুবকের সঙ্গে পালিয়ে এক ত্রিপুরা নারী শ্রমিকের বিয়ের জের ধরে ফটিকছড়ির দাঁতমারা নাছিহা চা-বাগানের প্রায় ৭৮ জন পাহাড়ি শ্রমিককে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে একটি পাহাড়ি সংগঠন। শব্দ বালা ত্রিপুরা নামের ওই নারীকে ফিরিয়ে না দিলে শ্রমিকদের বাগানে যেতে দেব না তারা।


এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং কোনো পক্ষ এত দিন মুখ না খোলায় বিষয়টি পাঁচ দিন ধরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর নজরে আসেনি। বাগান কর্তৃপক্ষও এই নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল প্রেমিক দাঁতমারা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইক্কাটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে মুহাম্মদ আরিফের (২৫) সঙ্গে পালিয়ে যান ওই বাগানের তশিরাম ত্রিপুরার মেয়ে শব্দ বালা ত্রিপুরা (২০)। তবে এ নিয়ে উভয় পরিবারের কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

স্থানীয় লোকজন জানান, ওই ঘটনার পর ২১ এপ্রিল একদল পাহাড়ি কয়েকটি চাঁদের গাড়ি নিয়ে বাগানে ঢুকে পাহাড়ি শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যায়।

বাগানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আর বাগানে আসতে দিচ্ছে না। তাদের দাবি, ওই পাহাড়ি নারী শ্রমিককে তাদের হাতে তুলে দিলে শ্রমিকদের বাগানে কাজ করতে ছেড়ে দেবে। অন্যথায় শ্রমিকদের বাগানে কাজ করতে দেবে না।

বাগানের ব্যবস্থাপক মুনির হায়দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রেমের টানে স্থানীয় এক ছেলের সঙ্গে পাহাড়ি বাগানের এক নারী শ্রমিক পালিয়ে যান। ওই ঘটনার রেশ ধরে পাহাড়ি একটি সংগঠন বাগানের পাহাড়ি ৭৮ শ্রমিককে বাগানে আসতে দিচ্ছে না। শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে জিম্মি করে রাখে। তাদের  দাবি, ওই যুগলদের তাদের হাতে ন্যস্ত না করলে শ্রমিকদের বাগানে কাজ করতে দেবে না। ওই প্রেমিকযুগল কোথায় গেছে তা বাগান কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করছিলেন বলে প্রশাসনকে জানাননি।

হেয়াঁকো বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, মৌখিকভাবে এ ঘটনা জানার পর বিজিবির জোয়ানরা তৎপরতা শুরু করেছেন। আর ভূজপুর থানা জানায়, তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানে না।

উপজেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানান ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জানে আলম বলেন, ঘটনাটি রামগড় বিজিবি জোন কমান্ডার ও রামগড়ের পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রেমিক যুগলকে পাহাড়িদের কাছে না দেয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজে যেতে দেবে না জানিয়েছে তারা।

বুধবার বিকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের বাগানে যেতে দেয়ার বিষয়ে সুরাহা হয়নি।

Post A Comment: