চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেয়নি ছাত্রলীগের একাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার হলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে ১২ জন। ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগকর্মীরা শাটল ট্রেনের হোস-পাইপ কেটে দেন।
চবিতে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ১২ জন আহত 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেয়নি ছাত্রলীগের একাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার হলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে ১২ জন। ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগকর্মীরা শাটল ট্রেনের হোস-পাইপ কেটে দেন। 


ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের এ অংশটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো আলমগীর টিপুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আহতরা হলেন : রায়হান, রকিবুল ইসলাম রকি, শাহনূর প্রীতম, নূর উদ্দিন, মিজাবউল ইসলাম, হৃদয়, এমাদ উদ্দিন। এছাড়া আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন : এএসআই মহসিন আলী (পিপিএম), রফিকুল ইসলাম, ইমাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, শরিফুল ইসলাম। আহতদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১০টায় পরীক্ষায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ৪০১ কোর্সের ¯œাতক ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বহিষ্কারাদেশ থাকায় শাকিলকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের করতে দেয়নি পরীক্ষা কমিটি। এ ঘটনায় তার অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনুষদের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা কক্ষের সামনে জড়ো হন। তারা শাকিলকে পরীক্ষা দিতে না দিলে পরীক্ষা হবে না বলে জানান। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করলেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এক পুলিশ সদস্য ও তিন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। এসময় রাহাত নামে বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের একজনকে আটক করে পুলিশ। উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা সমাজ বিজ্ঞান ঝুপড়ির সামনে একটি ট্রাক ও অনুষদের কয়েকটি বিভাগের জানালা ভাংচুর করে।

পরে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিশ^বিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে মূলফটকে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এখানে পুলিশ তাদের উপর চড়াও হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় তাদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ শুরু করলে ফটোকপির দোকানে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থী রায়হান, শাহনূর প্রীতম, নূর উদ্দিন, মিজাবউল ইসলাম আহত হন। তারা সকলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়। পরে বিক্ষোভকারীরা শাটল ট্রেনের পাঁচটি বগির হুস-পাইপ কেটে দেন। ফলে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে দুপুর দেড়টার ট্রেন ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী হাজারো শিক্ষার্থী। পরে বিকেলে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি বৈঠক করে। শাকিলের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলে বিকেল সাড়ে ৪টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ অক্টোবর ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া স¤পাদক মাহবুব শাহরিয়ার শাহীনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলসহ আরো দুই ছাত্রলীগ কর্মী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাকিলকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করে প্রশাসন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন শাকিল। ঘটনার সাথে জড়িত না থাকার পরও শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।

এদিকে দুপুর ১২টায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ৪০১ নং কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করে দেয় পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ।

পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ৪০১ নং কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করেছি। পরবর্তীতে এ পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে। এছাড়াও অন্যান্য পরীক্ষাসমূহ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শাকিলের বিষয়টি পুনঃ বিবেচনার অনুরোধ করেছি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। যদি পরীক্ষা দিতে না দেয় তাহলে নাছির ভাইয়ের সাথে কথা বলে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবো।

বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটি স্থায়ী বহিষ্কার নয়, তাই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথে কথা বলবো।
এ ব্যাপরে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা সেখানে পুলিশ মোতায়েন করি। আমরা তাদেরকে সরে যেতে অনুরোধ করলেও তারা শুনেনি। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ সময় একটি ট্রাক ও অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের জানালার কাঁচ ভেঙে দেয়।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের তাড়া খেয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রধান ফটক অবরোধের চেষ্টা করে তারা। কিন্তু সেখানেও পুলিশ ধাওয়া দিলে পুলিশের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় দফায় ইট পাটকেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে তারা শাটল ট্রেনের হুস পাইপ কেটে দেয়।

হাটহাজারী থানার উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীদের ছোড়া পাথরে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Post A Comment: