চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পাথর কোয়ারি হিসেবে একসময় স্থানটিকে চিনত সবাই। এখন পর্যটকদের কাছে ‘নীলাদ্রি লেক’ নামে স্থানটি পরিচিত। ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাটে এই লেকটির অবস্থান। প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন এই লেকটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এই লেকটি এখন বাংলাদেশের কাশ্মির হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পাথর কোয়ারি হিসেবে একসময় স্থানটিকে চিনত সবাই। এখন পর্যটকদের কাছে ‘নীলাদ্রি লেক’ নামে স্থানটি পরিচিত। ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাটে এই লেকটির অবস্থান। প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন এই লেকটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এই লেকটি এখন বাংলাদেশের কাশ্মির হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

পর্যটকদের টানছে ‘বাংলাদেশের কাশ্মির

জানা যায়, ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় নির্মাণ করা হয় আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে এর চাহিদা মেটানো হতো। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভারত থেকে পাথর সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় সিমেন্ট ফ্যাক্টরিটি চালু রাখার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজনে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে টেকেরঘাটে ৩২৭ একর ভূমির উপর জরিপ চালিয়ে ১৯৬০ সালে চুনাপাথরের সন্ধান পায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সাল থেকে খনিজ প্রকল্পটি চালু করা হয় এবং মাইনিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতের মেঘালয় সীমান্তে দৃষ্টিনন্দন স্থানে এ পাথর কোয়ারিটির অবস্থান হলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় দর্শনার্থীদের কাছে অধরাই থেকে যায় এর সৌন্দর্য। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ লেকটির ছবি ভাইরাল হলে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে স্পটটি। ভ্রমণপিপাসুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ লেকটিকে বিভিন্ন নামে উপস্থাপন করে। ভ্রমণ বিষয়ক একাধিক পেইজে দেখা যায় বাংলার কাস্মির, ভূস্বর্গ, নীলাদ্রী লেক ইত্যাদি নামে নামকরণ করা হয়েছে স্থানটির। এতে করে দিন দিন স্বকীয়তা হারিয়ে ট্যাকের ঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের পরিত্যক্ত পাথর কোয়ারি এখন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ‘নীলাদ্রি লেক’ হিসেবে অধিক পরিচিত।

ভাটি তাহিরপুর গ্রামের ভাই ভাই পরিবহনের স্বত্বাধিকারী দিলশাদ মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের মাঝি ও গাইড হিসেবে কাজ করেন। প্রথম দিকে পর্যটকরা এসে যখন নীলাদ্রি লেকের কথা জানতে চাইতো তখন কিছু বলতে পারতেন না। এখন তাদের কাছেও স্থানটি পরিচিত।

মোটরসাইকেল চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম প্রথম পর্যটকরা তাহিরপুর এসে যখন নীলাদ্রি লেক যাওয়ার কথা বলতো তখন আমরা কিছুই বুঝতাম না। এখন সবাই নীলাদ্রি লেক বললে ট্যাকের ঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের পাথর কোয়ারিতে বহন করে নিয়ে যাই।’

এ লেকটির নাম ‘নীলাদ্রি’ কবে কে কখন দিয়েছে তা বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি। তবে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল গ্রুপ বিন্দাস এর এডমিন রেদওয়ান খান দাবি করেন, তিনিই ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম এ লেকটির নাম নীলাদ্রি দিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেন। পরবর্তী সময়ে একাধিক পত্রিকায় ‘নীলাদ্রি’ লেক হিসেবে সংবাদটি ছাপা হওয়ায় লেকটি এই নামে পরিচিতি পায়।

ট্যাভেলার্স নেস্ট এডমিন খাইরুন আক্তার পিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্পের পাথর কোয়ারিটি নীলাদ্রি লেক হিসেবে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত। টেকেরঘাট খনিজ প্রকল্পের পাথর কোয়ারি বললে অনেক পর্যটক স্থানটি চিনে না।

টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বর্তমানে খাদ্য পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম টিফিন বলেন, তার বাবার চাকরির সূত্রে তিনি ৩০ বছরের মতো সময় পার করেছেন ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প এলাকায়। তিনি এ লেকটিকে চিনতেন পাথর কোয়ারি হিসেবে। এখন অনেক বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে চিনছেন নীলাদ্রি লেক হিসেবে। তার মতে পাথর কোয়ারি নামটি পরিবর্তন করে নীলাদ্রী নাম দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় নামটি ভাইরাল হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘শুধু পর্যটকরাই এ লেকটিকে নীলাদ্রি নামে চেনেন। স্থানীয়রা পাথর কোয়ারি বলে এবং ভবিষ্যতেও বলবে।’

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে টেকেরঘাট খনিজ প্রকল্পের পাথর কোয়ারিটি এখন নীলাদ্রী লেক হিসাবে পরিচিত এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে লেকটি এখনো পাথর কোয়ারি হিসেবেই পরিচিত।’ স্থানটি ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা দেখছেন সাংসদ।

Post A Comment: