কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছিলেন কেয়া পাল (২৪)। তার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের একটি শুকনো মালাকানা গাছ এই নববধূর নতুন সংসার চিরদিনের মত শেষ করে দিল। শুধু এই কেয়াই নয়, একইভাবে শম্পা (৩০) নামের আরেক গৃহবধূকেও ঘটনাস্থলে প্রাণ দিতে হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গাছের নিচে চাপা পড়ল শম্পা ও কেয়ার সংসার
 

কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছিলেন কেয়া পাল (২৪)। তার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের একটি শুকনো মালাকানা গাছ এই নববধূর নতুন সংসার চিরদিনের মত শেষ করে দিল। শুধু এই কেয়াই নয়, একইভাবে শম্পা (৩০) নামের আরেক গৃহবধূকেও ঘটনাস্থলে প্রাণ দিতে হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।


তারা দুজনই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিকে প্যারামেডিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহত দুই গৃহবধূর পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মত কেয়া ও শম্পা কর্মস্থল থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বিকাল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের বাসায় ফিরছিল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া অতিক্রম করার সময় একটি শুকনো গাছ সিএনজির উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই শম্পার মৃত্যু ঘটে। পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় কেয়াকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এরা হলেন- শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সবুজবাগ আবাসিক এলাকার গোপেন্দ্র চন্দ্র দেবের ছেলে অতুল চন্দ্র দেব (৫৬), রুপশপুর আবাসিক এলাকার স্মরণ ভট্টাচার্য, কমলগঞ্জ উপজেলার কামুদপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মোখলেস মিয়া (৬০)।

তাদের সবাইকে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মহসিন।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির ইর্মাজেন্সি বিভাগে কেয়া পালের মরদেহ পড়ে আছে। নিহতের স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে হাসপাতালটির বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অন্যান্যদের স্বজনরাও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ধরে কাঁদছে। এ যেন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, লাউয়াছড়া বনের ভেতরে জানকী ছড়া এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে একটি মালাকানা গাছ হতাহতদের বহনকারী চলন্ত সিএনজির উপর পড়ে যায়। এসময় সিএনজিটি গাছের নিচে চাপা পড়ে পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশে নিচু অংশে উল্টে পড়ে। এ সময় সিএনজির ভিতরে থাকা শম্পা নামের এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় প্রায় আধাঘণ্টা উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ও বন-কর্মীরা গাছ সরানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শম্পার স্বামী সঞ্জু দেব বলেন, তাদের বাসা শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগ এলাকায় আর কেয়ার বাসা সন্ধানী আবাসিক এলাকায়।

Post A Comment: